গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি ব্রিজের মুখ বালু দিয়ে ভরাট করে সরকারি খাসজমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে বিস্তীর্ণ বিলের ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিতে পড়েছে কয়েক হাজার কৃষকের ফসল ও কৃষিপণ্য পরিবহনের পথ।
উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের নড়াইল-ফুকরা সড়কের ছোটবাহিরবাগ মিয়াবাড়ি সংলগ্ন এলজিইডির ব্রিজে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছোটবাহিরবাগ গ্রামের বিকু মিয়া, রইজ মিয়া, মোস্তাক মিয়া ও আকবর মোল্লাসহ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের মালিকানাধীন জমির পাশের ৬৭৬ নম্বর দাগের সরকারি খাসজমি বালু দিয়ে ভরাট করছেন। একই সঙ্গে বাঁশ ও নেট দিয়ে ব্রিজের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে আশপাশের বিস্তীর্ণ বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারবে না। এতে ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চাষাবাদ ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি বর্ষাকালে নৌকায় ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনের পথ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এতে এলাকার কৃষকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
এলাকার কৃষক সুমন মিয়া, নাজমুল মল্লিক, মশিউর মল্লিক ও টুন্নু মিয়াসহ কয়েকজন জানান, ওই বিলাঞ্চলে তাঁদের কয়েক শ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। ব্রিজের মুখ বন্ধ করে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করা হলে এসব জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকেরা বলেন, ফসলি জমি রক্ষায় ব্রিজের মুখে তৈরি করা প্রতিবন্ধকতা দ্রুত অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ জন্য তাঁরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন রইজ মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি শুধু একা নই। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কবরস্থানে চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। তবে সেখানে কিছুটা সরকারি জমি আছে।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ক্ষতি বা সরকারি সম্পত্তি দখলের মতো কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।