দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৫ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইন্টারপোলের ই-মেইলের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।
শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দুদকের মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের বাইরে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দুদকের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে পৃথক মামলা রয়েছে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৬ মে ঢাকার একটি আদালত শেখ আব্দুল হান্নানের নামে থাকা জমি, তিনটি ফ্ল্যাট, নির্মাণাধীন সাততলা ভবন এবং ছয়টি ব্যাংক হিসাব ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।
এরপর একই বছরের ২৪ মে তাঁর, স্ত্রী তাহমিদা বেগম ও ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের নামে থাকা ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেন আদালত। দুদকের আবেদনে বলা হয়েছিল, তদন্ত চলাকালে সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা হলে তা পরে উদ্ধার করা কঠিন হতে পারে।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কিসমত মালিপাটন মৌজায় শেখ আব্দুল হান্নানের নামে থাকা ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত। জমিটির দলিলমূল্য ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার, নিয়োগ-বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে শেখ আব্দুল হান্নানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তদন্তে তাঁর দেশে-বিদেশে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
শেখ আব্দুল হান্নান ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।