রোববার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম আপডেট: ১৮.১০.২০২৬ ৩:১৫ পিএম
সংগৃহীত ছবিবাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে ৯ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব ইউনিটের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা শুধু একটি প্রতীক নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, আত্মত্যাগ ও জাতীয় মর্যাদা। পতাকার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।
তিনি বলেন, কোনো ইউনিটের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন কেবল সম্মাননা পাওয়ার বিষয় নয়; এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রতি দায়িত্ব আরও নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের নতুন অঙ্গীকারও যুক্ত হয়।
জাতীয় পতকাপ্রাপ্ত ইউনিটগুলো হলো—৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট।
প্রধানমন্ত্রী এসব ইউনিটের পেশাগত অর্জনের প্রশংসা করেন এবং ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অভিনন্দন জানান।
তারেক রহমান বলেন, একটি ইউনিটের ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্জন তার দীর্ঘ পথচলা, সাফল্য, শৃঙ্খলা, পেশাদারত্ব, আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি। এই পতাকা প্রতিদিন সৈনিকদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পতাকা অর্জনের সঙ্গে দায়িত্বও বেড়ে যায়। দেশের জন্য নির্ধারিত দায়িত্ব আরও আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে।
নিজের শৈশব ও পারিবারিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে সেনাবাহিনীর পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। ফলে ভিন্ন পরিচয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও এই পরিবেশ তাঁর কাছে অপরিচিত নয়।
মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা এবং পরবর্তী সশস্ত্র প্রতিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সশস্ত্র প্রতিরোধে সেনা কর্মকর্তাদের ভূমিকা বাহিনীর সদস্যদের জন্য অনুপ্রেরণার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একটি দক্ষ বাহিনীর মূল শক্তি হলো শৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণ, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, পেশাগত দক্ষতা ও জনগণের আস্থা। এর পাশাপাশি চেইন অব কমান্ড কার্যকরভাবে অনুসরণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সক্ষমতা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে।
সেনাসদস্যদের কল্যাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সেনাসদস্যদের জীবনমান উন্নয়নে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনা ও নৌবাহিনীর প্রধান, সংসদ সদস্য, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।