পাগলা মসজিদের ট্রেজারিতে জমা অলঙ্কার খুলতেই মিলল ২ হাজার ভরি সোনা-রুপা

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা

সারাদেশ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার গণনা ও ওজন করতে গিয়ে মিলেছে দুই হাজার ভরির

2026-10-12T21:01:34+00:00
2026-10-12T21:01:34+00:00
  সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬,
২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
 
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
পাগলা মসজিদের ট্রেজারিতে জমা অলঙ্কার খুলতেই মিলল ২ হাজার ভরি সোনা-রুপা
ছয় বছর সাত মাস পর গণনা, সোনা ১ হাজার ৪৪ ও রুপা ১ হাজার ৮৮ ভরি
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার গণনা ও ওজন করতে গিয়ে মিলেছে দুই হাজার ভরির বেশি মূল্যবান ধাতু। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গণনা শেষে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৪ ভরি সোনা এবং ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিদেশি মুদ্রা গণনার কাজও চলছিল।

দীর্ঘ ছয় বছর সাত মাস ধরে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সিলগালা করে রাখা এসব অলঙ্কার ও মুদ্রার হিসাব করতে সোমবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে কার্যক্রম শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ এসব অলঙ্কারের হিসাব করা হয়েছিল। সে সময় পাওয়া যায় ৪১৫ ভরি সোনা ও ১৮৪ ভরি রুপা। পরে নিলামে অলঙ্কারগুলো বিক্রি করে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া যায়। আর বিদেশি মুদ্রা বিনিময় করে পাওয়া গিয়েছিল ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৫১ টাকা।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, ২০২০ সালের পর থেকে ১৮ বার পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ জুন ১৩টি দানবাক্সে পাওয়া ৪৩ বস্তা টাকা গণনা করে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। সোমবার পর্যন্ত রূপালী ব্যাংকে মসজিদের হিসাবে নগদ জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা।

তিনি বলেন, এবারের গণনায় পাওয়া স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা কিছুদিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা হবে। বিক্রির অর্থ মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। বিদেশি মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী টাকায় রূপান্তর করা হবে।

অলঙ্কার ও মুদ্রা গণনার সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদা সাইফুল্লাহ সোহেল খান, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদ, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ রজমান আলী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মারুফ এবং রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারেসি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তার মধ্যে রূপালী ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ী নেতারা মুদ্রা গণনা এবং অলঙ্কার বাছাই ও ওজনের কাজে অংশ নেন। অলঙ্কারের মধ্যে হার, বালা, গলার চেইন ও নাকফুলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী রয়েছে। বিদেশি মুদ্রার মধ্যে পাওয়া গেছে ডলার এবং চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা। মুদ্রাগুলো দেশ অনুযায়ী আলাদা করে বান্ডেল করা হচ্ছে।

প্রতি দফায় দানবাক্সে পাওয়া বিদেশি মুদ্রা ও মূল্যবান অলঙ্কার সুরক্ষিত পাত্রে সিলগালা করে জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে রাখা হয়। দীর্ঘ ছয় বছর সাত মাস পর এবার সেগুলো খুলে প্রকাশ্যে গণনা ও ওজন করা হচ্ছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: