জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নুনুজ বাজার। ধান ও আলুর বেচাকেনার জন্য পরিচিত এ হাট থেকে প্রতি বছর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করলেও মিলছে না প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই প্রধান সড়কের তিনমাথা মোড়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। অন্যদিকে, কাঁচাবাজারে প্রবেশের উপযুক্ত রাস্তা ও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা এবং পরিবহন চালকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টি হলেই বাজারের ব্যস্ততম তিনমাথা মোড়টি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের খানাখন্দে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়। বছরের বিভিন্ন সময়ে এ হাট থেকে বিপুল পরিমাণ ধান ও আলু ট্রাকে পরিবহন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান, সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে। জলাবদ্ধতা ও খানাখন্দের কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় তাঁদের; ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও।
সপ্তাহের রোববার ও বুধবার নুনুজ বাজারের প্রধান হাটবার। এ দুই দিনে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম বাড়লেও হাটে প্রবেশের নির্দিষ্ট ও ভালো কোনো রাস্তা নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের মালামাল নিয়ে হাটের ভেতরে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ছাড়া জায়গার সংকটে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বসার উপযুক্ত স্থান পাচ্ছেন না।
বাশিলাপাড়া গ্রাম থেকে জালি কুমড়া বিক্রি করতে আসা জামিরুল ইসলাম বলেন, “হাটের জায়গায় বসার সুযোগ না পেয়ে অন্যের জায়গায় বসেছি।” তাঁর মতো অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে জায়গার সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
ধান ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনমাথা মোড়টির বেহাল অবস্থা থাকলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ হাটে ধান ও আলুর ব্যাপক আমদানি-রপ্তানি হয়। তাই হাটের সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ট্রাকচালক জামাল বলেন, সারা বছর নুনুজ বাজার থেকে ধান বোঝাই করে বহু ট্রাক নিয়ে যেতে হয় তাঁকে। কিন্তু তিনমাথা মোড়টি বর্তমানে এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে গাড়ি পার করার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। কয়েকবার বড় ধরনের বিপদের মুখেও পড়েছেন বলে জানান তিনি।
বাজারের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তরকারি ও মসলা ব্যবসায়ী সেকেন্দার আলী ও কাশেম। তাঁরা বলেন, বাজারে প্রবেশের ভালো রাস্তা না থাকায় মালামাল নিয়ে ভেতরে যাওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। জায়গার সংকটে অনেক ব্যবসায়ী এ বাজার ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার এ হাট থেকে বিপুল রাজস্ব পেলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে যথাযথ নজর নেই।
নুনুজ হাটের ইজারাদার সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের জন্য ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে তিনি হাটটি ইজারা নিয়েছেন। কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কসাইখানা এবং কাঁচাবাজারে প্রবেশের উপযুক্ত পথ না থাকায় দিন দিন ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগ্রহ কমছে। এতে প্রতি হাটবারে তাঁকে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত হাটটির অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, নুনুজ হাটের সমস্যাগুলো তাঁর নজরে এসেছে। দ্রুত হাটের জায়গা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তা এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।