রংপুরের পীরগঞ্জে উঁচু জমিতে আগাম জাতের আমন ধান পাকতে শুরু করায় মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে ধান কাটা ও মাড়াই। সোনালি ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ধান কাটার পরপরই একই জমিতে আলু, সরিষা, গম ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে পীরগঞ্জে ২৫ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি ধান-১০৩ জাতের ধান ২৫০ হেক্টর এবং আরও ১৪টি আগাম জাতের ধান প্রায় ৬ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এসব আগাম জাতের ধান ইতোমধ্যে পাকতে শুরু করায় বিভিন্ন এলাকায় কাটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, কৃষি বিভাগের মাধ্যমে আগাম জাতের ধানের বীজ ও সার বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই এসব জাতের চারা জমিতে রোপণ করা হয়। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অনেক জমিতে আগাম ধানের ফলনও ভালো হয়েছে।
আগাম আমন ধানের বড় সুবিধা হলো—সাধারণ আমনের তুলনায় দ্রুত পরিপক্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই ধান ঘরে তোলা যায়। এরপর একই জমিতে দ্রুত শীতকালীন ফসল আবাদ করা সম্ভব হয়। এতে জমি দীর্ঘ সময় পতিত থাকে না এবং একই জমি থেকে বছরে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়। রংপুর অঞ্চলেও আগাম আমন কাটার পর কৃষকেরা আলু, ভুট্টা ও বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষ করেন।
জয়পুর গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, আগাম জাতের ধান চাষে শ্রম ও খরচ কিছুটা বেশি হলেও অন্যদের তুলনায় আগে ধান ঘরে তোলা যায়। এ সময় কাঁচা ধানের খড়ের চাহিদাও বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে খড় ব্যবসায়ীরা জমি থেকে ধান কেটে নেওয়ার বিনিময়ে কৃষকের কাছ থেকে কাঁচা আঁটি কিনে নেন। এতে ধান কাটার খরচও কিছুটা কমে যায়।
খড় ব্যবসায়ী আজমল হক বলেন, আমন মৌসুমের কাঁচা খড় বা আঁটির চাহিদা ভালো। বর্ষা মৌসুমে গো-খাদ্যের খড়ের সংকট থাকায় ব্যবসায়ীরা আগাম ধানের কাঁচা আঁটি সংগ্রহ করে রাখেন। এতে কৃষকের বাড়তি আয় হয়, পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হন।
কৃষকদের মতে, একই এলাকায় বেশি সংখ্যক কৃষক আগাম জাতের আমন চাষ করলে এর সুফল আরও বাড়বে। একই সময়ে ধান পেকে যাওয়ায় দ্রুত কাটা সম্ভব হয় এবং পাখি ও ইঁদুরের আক্রমণও তুলনামূলকভাবে কমানো যায়। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ধান কাটার পর দ্রুত শীতকালীন ফসল আবাদ করা যায়।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগাম আমন চাষের মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ও আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ধান কাটার পর দ্রুত শীতকালীন ফসল আবাদ করতে পারলে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকের আর্থিক লাভ আরও বাড়তে পারে।