নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে বগুড়ায় ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাঠপর্যায়ে ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসার বাড়ানোর পাশাপাশি জাল টাকা ও নগদ অর্থ বহনের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতেও ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়া শহরের রানার প্লাজার নিচতলায় ‘বাংলা কিউআর’ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি)। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার নির্বাহী পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ক্যাশলেস লেনদেনকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। ‘বাংলা কিউআর’ প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন ব্যাংকের সমন্বিত সেবার মাধ্যমে গ্রাহকদের আর্থিক লেনদেন আরও সহজ ও ভোগান্তিমুক্ত করা সম্ভব। নগদ টাকা ছাপাতে সরকারের প্রতিবছর বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে এ ব্যয়ও অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, নগদ অর্থের ব্যবহার কমলে জাল টাকা নিয়ে ঝুঁকি যেমন কমবে, তেমনি অর্থ বহন ও সংরক্ষণের নিরাপত্তা ঝুঁকিও কমবে। ফলে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের বিষয়ে আস্থা বাড়ানো জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে এমটিবির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার চৌধুরী আখতার আসিফ বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্ট ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। গত ৯০ দিনে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন গুণ এবং অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুনে ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় এক লাখ লেনদেন হতো। তখন এর আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ২৮ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দৈনিক প্রায় সাড়ে তিন লাখ লেনদেনে দাঁড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের ফলে গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট মার্চেন্টের কিউআর কোড স্ক্যান করে পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারেন। এতে নগদ টাকা বহনের প্রয়োজন কমে আসে এবং লেনদেনের প্রক্রিয়াও সহজ হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার পরিচালক মো. সেলিম আহম্মদ, সরদার আল ইমরান ও মো. আখতারুল ইসলাম, এমটিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম তারেক এবং বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন এমটিবি বগুড়ার রিজিওনাল ম্যানেজার ও ব্যবস্থাপক কুদরত ই খোদা সামিউল করিম।