ঢাকার রূপনগর থেকে অপহৃত ছয় বছরের শিশু বায়জিদকে ১৮ দিন পর জীবিত উদ্ধার করেছে এসআরবি-৪। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-৪ জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়ার একটি বাসা থেকে শিশু বায়জিদ নিখোঁজ হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে শিশুটিকে উদ্ধারে ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি-৪-এর একটি আভিযানিক দল।
তদন্তের শুরুতে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিশুটিকে বাসা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে স্কয়ার নার্সিং হোম ক্লিনিকের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে ক্লিনিক থেকে লিপি ও নাসরিন নামে দুই নারীকে শিশুটির হাত ধরে যেতে দেখা যায়। এরপর আর কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বায়জিদের বাবা রফিকুল ইসলামের পাশের বাসার ভাড়াটিয়া কুলসুমের মেয়ে নাসরিন কয়েকদিন ধরে সেখানে অবস্থান করছিলেন। নাসরিন শিশু চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং বায়জিদকে লিপির সঙ্গে নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কুলসুমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এরপর প্রযুক্তিগত তথ্য, গোয়েন্দা সূত্র ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যায় এসআরবি-৪। একপর্যায়ে মঙ্গলবার টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদ নগরের দত্তপাড়া এলাকার সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের বালক শাখায় বায়জিদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বায়জিদের বাবা রিকশাচালক এবং মা বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে বায়জিদের মা তাকে ও তার বাবাকে বাসায় ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে কাজে বের হন। পরে দুপুরে ঘুম থেকে উঠে বায়জিদের বাবা দেখতে পান, শিশু সন্তান বাসায় নেই।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও বায়জিদের সন্ধান না পেয়ে তার বাবা রূপনগর থানায় অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন।
এসআরবি-৪ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।