রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশাচালকরা। অটোরিকশা ডাম্পিং বন্ধ, নির্দিষ্ট সড়কে চলাচলের অনুমতি, হয়রানি বন্ধ ও চার্জিং পয়েন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবিতে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে শত শত চালক সড়কে অবস্থান নেন।
অবরোধে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কের দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের পর আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছেড়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
অটোচালকদের এ আন্দোলনের প্রভাব পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও। রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশার চলাচল কমে যায়।
সমাবেশে অটোচালক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অনেক চালক কাজ করতে না পারায় পরিবার নিয়ে সংকটে পড়েছেন।
এক চালক বলেন, ‘২৫ দিন ধরে আমার খাবার নেই। আমার লাইন কাটা বন্ধ করতে হবে। প্রত্যেকটি রোডে চলার অনুমতি দিতে হবে।’
অটোচালকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, তাদের অটোরিকশা যেন ডাম্পিং করা না হয়। কোনো চালক হামলা বা মামলার শিকার হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার ঘোষণা দেন তারা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালক মিল্লাদ মিয়া বলেন, অটো চার্জ দেওয়ার স্থানগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রতিবাদেও তারা আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত সড়ক ছাড়বেন না বলেও জানান তিনি।
আরেক চালক সুমনের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশ অটোচালকদের হয়রানি করছে এবং অটোরিকশা ডাম্পিং করছে। জব্দ করা অটোরিকশার বিরুদ্ধে পাঁচ হাজার টাকা করে মামলা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অটোচালকদের দাবি, যেসব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ রয়েছে, সেসব সড়কে তাদের চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
তাদের ভাষ্য, দেশে লাখ লাখ মানুষ অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অবৈধভাবে কেউ অটোরিকশা চালালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে বৈধভাবে চলাচলকারী চালকদের হয়রানি ও জীবিকা বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।