রাজধানীর রামপুরা থানা এলাকায় পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ মো. আল-আমিন ওরফে পিচ্চি আল-আমিন ওরফে ওমর ফারুকসহ তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৩।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি বিদেশি রিভলবার, ১৪ রাউন্ড গুলি এবং দুটি দেশীয় অস্ত্র (লোহার ছুরি) উদ্ধার করা হয়েছে।
এসআরবি-৩ জানিয়েছে, গত ১ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর রামপুরা থানাধীন টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিচ্চি আল-আমিন (৩৫), তার সহযোগী কামাল উদ্দিন (৩০) ও খাইরুল ইসলামকে (৪৬) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পরে পিচ্চি আল-আমিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যায় রামপুরার কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তার আরও দুই সহযোগী মো. সোহাগ হাওলাদার ওরফে মামুন (২৮) এবং মো. রিফাত ইসলামকে (১৯) দুটি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর পিচ্চি আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার আরেক সহযোগী মো. কাওছার খানের (১৯) কাছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকার তথ্য পায় এসআরবি। প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে গত ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় রামপুরার কুঞ্জবন এলাকা থেকে কাওছারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে কাওছারের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী খিলগাঁও থানাধীন ভূঁইয়াপাড়ার একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি রিভলবার এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিনসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী পিচ্চি আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে রামপুরা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তার নেতৃত্বে সহযোগীরা নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পু স্ট্যান্ড, ডিস ব্যবসায়ী ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রীনজোন অনলাইন’ নামে একটি ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি। পাশাপাশি ব্যবসা চালিয়ে যেতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় রামপুরা থানায় মামলা হলে পিচ্চি আল-আমিন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এসআরবি-৩।
এসআরবি জানিয়েছে, পিচ্চি আল-আমিন গত ১২ জুন রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ হত্যার ঘটনায় করা চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিল ও গুলশান থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, চাঁদাবাজি, হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ মোট ২৭টি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে গ্রেপ্তার অপর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসআরবি-৩ বলছে, পিচ্চি আল-আমিন ও তার সহযোগীরা একের পর এক গ্রেপ্তার হওয়ায় রামপুরা এলাকায় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়রা এসআরবির প্রতি আস্থা প্রকাশের পাশাপাশি অপরাধীদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।