শাহজালাল বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের কাল্পনিক মহড়া, অংশ নিল একাধিক সংস্থা

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজধানী

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সি এক্সারসাইজ (ফায়ার)-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (৫

2026-10-05T14:55:21+00:00
2026-10-05T14:55:21+00:00
  বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানী
শাহজালাল বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের কাল্পনিক মহড়া, অংশ নিল একাধিক সংস্থা
ভোরের ডাক ডেস্ক
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৫ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সি এক্সারসাইজ (ফায়ার)-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) আয়োজিত এ মহড়ায় উড়োজাহাজে অগ্নিকাণ্ডের পর আগুন নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বাস্তবসম্মতভাবে অনুশীলন করা হয়।

মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল বিমানবন্দরের ফায়ার ক্রুদের দক্ষতা যাচাই, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত ও সমন্বিত সাড়া নিশ্চিত করা।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নির্দেশনা এবং National Civil Aviation Security Programme-এর নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট সময় পরপর এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরুরি মহড়া আয়োজন করা হয়।

মহড়ায় একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এতে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে ৯৮ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু নিয়ে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক আগে ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন লাগার কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারকে জানায়।

এরপর এটিসি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সব জরুরি সেবা সংস্থাকে খবর দেয়। বিমানবন্দরের Airport Emergency Plan কার্যকর হওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয় সংশ্লিষ্ট দলগুলো।

কাল্পনিক দৃশ্যপটে আরও দেখানো হয়, জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ের সেন্ট্রাল লাইন থেকে বিচ্যুত হয়ে নির্ধারিত অংশ অতিক্রম করে। পরে এটি রানওয়ের বাম দিকে ছিটকে পড়ে এবং ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে থেমে যায়। দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটির নিচের অংশে আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত পুরো উড়োজাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, এটিসি, উদ্ধারকারী দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একযোগে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া এবং যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও মহড়ায় দেখানো হয়।
মহড়াটি প্রধান অতিথি হিসেবে প্রত্যক্ষ করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

মহড়ায় বেবিচক ও বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিভিন্ন হাসপাতাল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত মহড়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করায় বেবিচক ও অংশগ্রহণকারী সব সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, আধুনিক ও নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আসন্ন আইসিএও অডিটের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী সম্ভাব্য পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবাইকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রটোকল সমানভাবে মেনে চলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোন উড্ডয়নকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও স্ক্যানারের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি যাচাইয়ে এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক মহড়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি কোথায় উন্নতি প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা যায়।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, বাস্তবভিত্তিক মহড়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় অপরিহার্য।

মহড়া শেষে বিভিন্ন পর্যায়ের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, মহড়া থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে শাহজালাল আন্ত


Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: