পরকীয়া সম্পর্ক ও বিয়ের চাপকে কেন্দ্র করে ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যার দায়ে মানিকগঞ্জে সোলাইমান হোসেন (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোলাইমান হোসেনের সঙ্গে তার ভাবি পারভীনের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পারভীন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে পারভীনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন সোলাইমান।
এ সময় ঘটনাটি দেখে ফেলায় পারভীনের শিশু সন্তানকেও হত্যা করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ সোলাইমান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত উৎসাহী হয়ে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই অভিযোগপত্র জমা দেন। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এই রায় ন্যায়ভ্রষ্ট হয়েছে। উচ্চ আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করছি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও জেলা জজ আদালতের পিপি আ. ফ. ম. নুরতাজ আলম বাহার বলেন, এটি দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের মামলা হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেছিল। আসামি নিজেও দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আদালত নথিপত্র পর্যালোচনা করে মামলার ধারা পরিবর্তন করে অপর্যাপ্ত সাজা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে অসন্তুষ্ট।
রায়ের পর আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছে।