স্কুল ছুটির পর গেটের সামনে থেকেই ৮ বছরের শিশু সাইমকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। শিশুটিকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছে দাবি করা হয় দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ। তবে টাকা দেওয়ার আগেই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহ থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় কথিত অপহরণ চক্রের মূলহোতা মো. নাদিম ওরফে হৃদয় (৩৩) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তার (৩১)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএম।
পুলিশ জানায়, গত ৩ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী পশ্চিমপাড়া গোচারটেক এলাকায় আলহাজ আব্দুর রশিদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেটের সামনে থেকে প্লে-শ্রেণির ছাত্র সাইমকে অপহরণ করা হয়।
স্কুল ছুটির পর শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিবারের কাছে ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর শিশুটির বাবা মো. নাছির উদ্দিন আশুলিয়া থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে দ্রুত তদন্তে নামে আশুলিয়া থানা পুলিশ। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় এসআই মো. আনোয়ার হোসেন পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে একপর্যায়ে অপহরণকারীদের অবস্থান ময়মনসিংহে শনাক্ত করে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানার মনোহরপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশের বিশেষ দল। এ সময় ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার নেওকা এলাকার মৃত গফুর মৃধার ছেলে মো. নাদিম ওরফে হৃদয় (৩৩) এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তার (৩১)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু সাইমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের খবরে স্বস্তি ফিরেছে সাইমের পরিবারে। তবে স্কুলগেট থেকে একটি শিশুকে অপহরণ করে অন্য জেলায় নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং অপহরণ চক্রের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।