ধানখেতের পাশের নিচু জমিতে থইথই পানি। কোথাও কচুরিপানার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে শাপলা, কোথাও পানিতে ছোটাছুটি করছে মাছ। সেই পানিতে কোমরসমান নেমে কেউ হাতড়ে খুঁজছেন কই-শিং, কেউ কচুরিপানা সরিয়ে ধরছেন টাকি-শোল। পাশেই শিশুরা ছোট ছোট পাত্র হাতে ছুটে বেড়াচ্ছে, ধরা মাছ জমা করছে। নারী-পুরুষ-শিশুর এমন দলবেঁধে মাছ ধরার দৃশ্যে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্র সারদা গ্রামজুড়ে যেন বসেছে মাছ ধরার উৎসব।
বর্ষার পানি ধীরে ধীরে কমে আসায় গ্রামের নিচু জমি ও জলাশয়গুলো এখন দেশীয় মাছে মুখর। সকাল কিংবা বিকেল হলেই সুযোগ বুঝে স্থানীয়রা দল বেঁধে পানিতে নেমে পড়ছেন। মাছ ধরার এই আয়োজনে যেমন মিলছে পরিবারের জন্য তাজা মাছ, তেমনি মিলছে একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ।
স্থানীয় জলাশয়গুলোতে এখন পাওয়া যাচ্ছে কই, শিং, মাগুর, টাকি, শোল, পুঁটি, মলা, ঢেলা, চেলা, খলিশা, চান্দা ও বাইনসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। বিশেষ করে ছোট দেশীয় মাছ গ্রামীণ মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে পরিচিত।
মাছ ধরতে আসা রওশন আলী বলেন, ‘বর্ষার পানি কমলে আমরা দল বেঁধে এখানে মাছ ধরতে আসি। মাছ ধরার মধ্যে আনন্দ আছে, আবার বাড়ির জন্য তাজা দেশীয় মাছও পাওয়া যায়।’
মাছ ধরতে আসা শিশু লাবনি বলে, ‘অনেক মানুষ একসঙ্গে মাছ ধরছে। আমিও মাছ ধরছি, খুব ভালো লাগছে।’
স্থানীয়দের কাছে দলবেঁধে মাছ ধরা শুধু মাছ সংগ্রহের বিষয় নয়; এটি গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের লোকজ ঐতিহ্যের অংশ। একসঙ্গে পানিতে নামা, মাছ খোঁজা এবং ধরা মাছ ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আনন্দের পরিবেশ।
তবে জলাশয় ভরাট, পানি দূষণ, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার এবং প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মাছ ধরার কারণে দেশীয় মাছের আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। জলাশয় ও প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ করা গেলে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা দলবেঁধে মাছ ধরার এই লোকজ ঐতিহ্যও টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।