হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে অনলাইন জুয়া চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। এ সময় তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও খেলায় ব্যবহৃত সাতটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ পুরাতন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি জানায়, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার রেলওয়ে গুদাম ও রেজভিয়া জামে মসজিদের সামনের ট্রাকস্ট্যান্ডের ফাঁকা জায়গায় কয়েকজন ব্যক্তি অনলাইনে জুয়া খেলছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সাতজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত সাতটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গাইবান্ধার সাঘাটা থানার হালিশকান্দি মাস্টারপাড়া এলাকার মো. আবুল হাশেমের ছেলে ও বর্তমানে শায়েস্তাগঞ্জের দক্ষিণ লেংজাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. খাইরুল হাসান পলাশ (৩৫), লাখাই উপজেলার পূর্ব বুল্লার মৃত সুধাংশু মল্লিকের ছেলে সুভাষ চন্দ্র মল্লিক (২৬), নবীগঞ্জের চৌকতপুর এলাকার দানিসুল্লাহর ছেলে কামরুল ইসলাম (৪১), শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার দাউদনগর বাজারের মৃত গোপাল রবীদাসের ছেলে রনি রবীদাস (২৩), নিজগাঁও এলাকার মো. আব্দুল শহীদের ছেলে মো. শাহ আলম (২৮), চরণুর আহমেদ এলাকার মৃত শেখর মিয়ার ছেলে মো. তৌহিদ মিয়া (২৬) এবং নবীগঞ্জের পিরিজপুর এলাকার মো. মুজিবুর রহমানের ছেলে রেদোয়ান হোসেন (২৩)।
এসআরবি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন জুয়ার স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন।
তাদের দাবি অনুযায়ী, কমিশনের বিনিময়ে তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে অনলাইন জুয়া অ্যাপ ব্যবহারে উৎসাহিত করতেন। একই সঙ্গে জুয়ার অর্থ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করে মূল এজেন্টের কাছে পাঠাতেন।
এসআরবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে ব্যবহৃত কয়েকটি অ্যাপের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অ্যাপ ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শেষে তাদের এবং জব্দ করা আলামত শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে এসআরবি।