আগাম ফুলকপিতে স্বপ্ন বুনছেন শাজাহানপুরের কৃষক

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

খরিপ-২ মৌসুমে বগুড়ার শাজাহানপুরে আগাম জাতের ফুলকপি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফুলকপি তুলে তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রির

2026-10-04T17:47:49+00:00
2026-10-04T17:47:49+00:00
  মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
আগাম ফুলকপিতে স্বপ্ন বুনছেন শাজাহানপুরের কৃষক
মৌসুমের আগেই মাঠজুড়ে ফুলকপি, ভালো দামের আশায় চাষিদের ব্যস্ততা
শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম 
ছবি : ভোরের ডাক

খরিপ-২ মৌসুমে বগুড়ার শাজাহানপুরে আগাম জাতের ফুলকপি চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফুলকপি তুলে তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রির আশায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করছেন। এরই মধ্যে অনেক কৃষকের জমিতে ফুলকপি উঠতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বাজারে বিক্রিও শুরু করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শাজাহানপুরে প্রায় ৮ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। উপজেলার আড়িয়া, মাঝিড়া ও চোপিনগর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় এ চাষ হচ্ছে। এ মৌসুমে আইসবল, মারইয়াম-১, রত্ন, সামার হোয়াইট, কিরণ ও আর্লিসান জাতের ফুলকপি চাষ করছেন কৃষকরা।

কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি, পানি নিষ্কাশনের সুবিধা, পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ এবং ৬ থেকে ৭ পিএইচযুক্ত মাটি ফুলকপি চাষের জন্য উপযোগী। রোদযুক্ত ও আলো-বাতাস চলাচল করে এমন জমি নির্বাচন করা ভালো। অতিরিক্ত এঁটেল মাটিতে গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই উঁচু বেডে ফুলকপি চাষ করলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নেমে যায় এবং গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।

উপজেলার মানিকদিপা গ্রামের কৃষক আবু তালেব বর্ষা মৌসুমের আষাঢ় মাসের শুরুতে ১ বিঘা ২৪ শতক জমিতে আগাম আইসবল জাতের ফুলকপির চারা রোপণ করেন। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ, নিড়ানি ও রোগবালাই দমনসহ নিয়মিত পরিচর্যার পর তাঁর জমিতে ফুলকপি উঠতে শুরু করে। এরই মধ্যে তিনি বাজারে ফুলকপি বিক্রিও শুরু করেছেন।

আবু তালেব বলেন, আগাম আইসবল জাতের প্রতি হাজার চারা ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে কিনে জমিতে রোপণ করেছেন। জমি প্রস্তুত, চারা, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যাসহ এ পর্যন্ত তাঁর এক লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় তিন লাখ টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন। জমিতে থাকা অবশিষ্ট ফুলকপি বাজারদর ভালো থাকলে আরও দেড় থেকে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

কৃষক নজরুল ইসলাম ১৯ শতক জমিতে আগাম আইসবল জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। এরই মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করেছেন তিনি। বাজারদর ভালো থাকলে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ বছর উজ্জ্বল হোসেন ১৩৩ শতক, মাসুম ৫০ শতক, আবু বক্কর ৪৫ শতক, রাজু মিয়া ৪০ শতক, শাহজাহান আলী ৩৬ শতক, শাহীন আলম ৩৩ শতক, মাহমুদ আলী ৩৩ শতক, মোকছেদ আলী ২২ শতক, মিনহাজ ২৮ শতক এবং আলমগীর ৩২ শতক জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন।

অনেক কৃষক একই জমিতে ফুলকপির পাশাপাশি সাথি ফসল হিসেবে লাউ, শিম, বরবটি, কালাই, শসা ও ঝিঙা চাষ করছেন। এতে একই জমি থেকে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান চাষিরা।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, ফুলকপি চাষে কৃষি বিভাগের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ হলেও জমি প্রস্তুত, জাত নির্বাচন, সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই দমনসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনেক কৃষক সময়মতো কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এতে উৎপাদন ব্যয় ও ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ভালো ফলন নিশ্চিত করা নিয়েও তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা দীপ্তি রানী রায় বলেন, ভালো দাম ও স্থানীয় বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকরা আগাম ফুলকপি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগাম ফুলকপি লাভজনক হওয়ায় কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, উন্নত জাত নির্বাচন, সঠিক সময়ে চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে আগাম ফুলকপির ভালো ফলন সম্ভব। সার, সেচ ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি রোগ-পোকার আক্রমণ দেখা দিলে নিজে থেকে কীটনাশক ব্যবহার না করে কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়ার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: