চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিল না হলে বন্দর অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বন্দর রক্ষা আন্দোলনের নেতারা। দাবি আদায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মশাল মিছিল ও বন্দর ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বন্দরকেন্দ্রিক বিভিন্ন শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
অবস্থান কর্মসূচির কারণে প্রশাসনিক ভবনের দিকে যানবাহন চলাচল দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এ সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ, বন্দর নিরাপত্তা বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতি ছিল।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, আগামী ৮ অক্টোবর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এমনটি হলে চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারকে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কৌশলগত এই অবকাঠামো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থে কতটা যৌক্তিক, তা সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, সরকার বর্তমানে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এ অবস্থায় এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দিতে এত তাড়াহুড়োর কারণ জনগণের কাছে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার অভিযোগ করেন, বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান ডিপি ওয়ার্ল্ডের স্বার্থে কাজ করছেন। তিনি বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের নেতা হুমায়ুন কবীর বলেন, তারা আশা করেছিলেন সরকার এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ থেকে সরে আসবে এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু এখন তারা হতাশ।
দাবি আদায়ে আগামী ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় বন্দর ভবনের সামনে থেকে মশাল মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরপর ১৩ অক্টোবর বন্দর চেয়ারম্যানের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের (টিইউসি) সভাপতি তপন দত্ত। তিনি বলেন, ওই দিন চেয়ারম্যানকে কার্যালয় থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার বিষয়ে সরকারকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। এভাবে আর বসে থাকার সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন বলেন, বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে তারা নামমাত্র কর দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। দেশীয় জনবল দিয়ে বন্দর পরিচালনা করা হলে এর আয় দেশের অর্থনীতিতেই থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বাসদ মার্ক্সবাদী চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক শফিউদ্দিন কবির আবিদ, গণমুক্তি ইউনিয়নের সমন্বয়ক রাজা মিয়া, স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, চট্টগ্রাম যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব হাসিবুর রহমান বিপ্লবসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।