সিরাজগঞ্জের কাঠেরপুল থেকে রায়গঞ্জের ধানগড়া পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের পাঁচটি বেইলি ব্রিজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৩৮ বছর আগে নির্মিত এসব সেতুর কোথাও পাটাতলে ফাটল, কোথাও দেখা দিয়েছে ভাঙন। জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সচল রাখা এসব সেতুর ওপর দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে শত শত যানবাহন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা ও যানচালকরা।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মোট ১৩টি বেইলি ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে কাঠেরপুল থেকে রায়গঞ্জের ধানগড়া পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যেই রয়েছে পাঁচটি বেইলি ব্রিজ। ১৯৮৮ সালে নির্মিত এসব সেতু দীর্ঘদিনের ব্যবহারে পুরোনো ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও এখনো সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি।
ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এসব সেতুর ওপর দিয়েই প্রতিদিন ভারী পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয়রা জানান, ভারী যানবাহন বেইলি ব্রিজে উঠলে অনেক সময় পুরো সেতুতে কম্পন অনুভূত হয়। সরু সেতুতে বিপরীত দিক থেকে দুটি যানবাহন একসঙ্গে উঠলে তৈরি হয় বাড়তি ঝুঁকি। তার ওপর পাটাতলের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন থাকায় চালকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেতু পার হতে হয়।
ট্রাকচালক মমিনুল বলেন, “পুরোনো জোড়াতালির এই বেইলি ব্রিজ পার হওয়ার সময় গাড়ির গতি কমিয়ে দিতে হয়। পাটাতলের অবস্থা ভালো না থাকায় ভারী গাড়ি নিয়ে চলাচলের সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন কী ঘটে, সেই ভয় সবসময় কাজ করে।”
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ইনসাব আলী বলেন, একটি ভারী যানবাহন সেতুতে উঠলে অনেক সময় বিপরীত দিকের যানবাহনকে অপেক্ষা করতে হয়। সেতুগুলোর পাটাতল ফাটা ও কোথাও কোথাও ভেঙে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দ্রুত এসব বেইলি ব্রিজ অপসারণ করে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, “কাঠেরপুল থেকে রায়গঞ্জের ধানগড়া সড়কের বেইলি ব্রিজগুলো পুরোনো হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে সড়কটি সম্প্রসারণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে পুরোনো বেইলি ব্রিজগুলো সরিয়ে সেখানে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু হলে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে এ আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।