ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও ময়লা অপসারণে পৌরসভা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না—এমন অভিযোগে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন।
শনিবার (৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের পুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দারা আইস কোং মোড় ও মনামরা সেতুর নিচের সড়কে বাঁশ ও বস্তা ফেলে অবরোধ করেন।
অবরোধের কারণে ভৈরব বাজার-বাসস্ট্যান্ড-রেলওয়ে জংশন স্টেশন সড়ক এবং চণ্ডিবের সড়কে কয়েক শত যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে স্টেশন ও বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে এনে ফেলা হচ্ছে। এসব ময়লার স্তূপ থেকে এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এতে পুর দক্ষিণপাড়া এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে বলে দাবি তাদের।
ভৈরব চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি জাহিদুল হক জাবেদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফুল হক সুজন, ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম সুমন, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী ইসমাইল ও যুবদলের সভাপতি জাহিদ মিয়াসহ স্থানীয়রা বলেন, ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, মশার কামড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ এলাকায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে শতাধিক মানুষ চিকিৎসাধীন এবং ৮ থেকে ১০ জন আইসিইউতে রয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, পুরো এলাকাটি এখন ডেঙ্গুর ‘রেড জোনে’ পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রায় দেড় মাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে এম মামুনুর রশিদ ওইসব স্থানে আর ময়লা না ফেলার এবং জমে থাকা ময়লার ওপর বালি ফেলে স্থানগুলো ভরাট করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে সেই আশ্বাস অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ এম আজিমুল হক। তিনি জানান, ময়লার স্তূপের ওপর বালি ফেলে তা ঢেকে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ১০ সদস্যের একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য ডাম্পিংয়ের জায়গা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ময়লা অপসারণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও লার্ভা ধ্বংসে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।