খুলনা মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা প্রণয়ন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
তিনি জানিয়েছেন, ডুমুরিয়া উপজেলার সলুয়ায় স্থাপিত বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট আগামী ডিসেম্বরে চালু হবে। বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গায় আরেকটি বর্জ্য রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি রাজবাঁধ ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডে মেডিকেল বর্জ্য শোধনাগারও শিগগির চালু করা হবে। এসব প্রকল্প চালু হলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।
গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত বিশ্ব অনেক এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে চায়। তবে পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তুলতে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্রচলিত ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণের জন্য তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. রেজাউর রহমান, সহকারী পরিচালক ডা. মোস্তফা আল মামুন, কেসিসির কনজারভেন্সি কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান এবং হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো. সাজ্জাদুল হাসনাত খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান।
কর্মশালায় হাসপাতালের বর্জ্য পৃথকীকরণ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও অপসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।
জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশায় নাগরিক চাহিদাকে গুরুত্ব
খুলনা জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও মতবিনিময় সভা গতকাল বিকেলে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষক, কেসিসি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) কর্মকর্তা এবং নাগরিক নেতারা অংশ নেন।
কেসিসি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। সভায় জিয়া হল কমপ্লেক্সে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে, সে বিষয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের মতামত নেওয়া হয়। এসব মতামতের ভিত্তিতে কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়ন করা হবে বলে জানানো হয়।
সভায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। শিক্ষার্থীরা আধুনিক সিনেপ্লেক্স, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও ভবনের সর্বোচ্চ তলায় ফুডকোর্ট রাখার দাবি জানিয়েছেন। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা আর্ট গ্যালারি, নৃত্যচর্চার স্থান ও উন্মুক্ত নাট্যমঞ্চের প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এসব চাহিদার সমন্বয়ে একটি নান্দনিক স্থাপনা নির্মাণই তাঁদের লক্ষ্য। শিববাড়ী মোড়কে নগরীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকদের চাহিদা ও রুচিবোধের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকার যান চলাচল ব্যবস্থার বিষয়টিও নকশা প্রণয়নের সময় বিবেচনায় রাখতে হবে।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. খোন্দকার মাহফুজ উদ দারাইন, সহযোগী অধ্যাপক এস এম নাজিমউদ্দীন, কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম, কেসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও নাগরিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আহ্বান
এদিকে, গতকাল বিকেলে নগরীর চরেরহাট এলাকার খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মশারি বিতরণ করা হয়েছে। ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নাহিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মশারি বিতরণ করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী তিন মাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সরকারি অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
নাহিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি সারমিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ, সমাজসেবক অ্যাডভোকেট ফজলে হালিম লিটন ও কাজী শফিকুল ইসলাম। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শায়লা আজীমের পৃষ্ঠপোষকতায় কর্মসূচিটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. আবু ইউসুফ বাবুল।
এ সময় ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবা খান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম নান্টু, নারী ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক আঞ্জুমান আরা, সহিল উদ্দিন, নিজামউর রহমান লালু, মো. শহিদুল ইসলাম, দীপক কুমার দত্ত, কাজী আসিফুর রহমান, মো. নাসিফ ইকবাল, এইচ এম এ সালেক, মো. সামছুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।