শরতের স্নিগ্ধতায় সেজেছে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর তীর ও চরাঞ্চল। নদীর বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ বালুচরে সারি সারি সাদা কাশফুল যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা শুভ্র ক্যানভাস। নদীর নির্মল বাতাস, নীল আকাশ আর দিগন্তজোড়া কাশবনের অপূর্ব মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। প্রকৃতির এমন অপরূপ রূপ দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন স্থানীয়সহ দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, করতোয়া নদীর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য কাশফুল। হালকা বাতাসে দুলছে কাশের সাদা শীষ। কখনো বাতাসের দোলায় কাশফুলগুলো একসঙ্গে দুলে উঠছে, আবার কখনো নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে মিলেমিশে তৈরি করছে অপূর্ব দৃশ্য। খোলা আকাশের নিচে সাদা কাশফুলের এই মায়াবী সৌন্দর্য যে কাউকে কিছুক্ষণের জন্য ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিচ্ছে।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের নিয়ে এখানে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ কাশবনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ নদীর পাড়ে বসে নির্মল বাতাস উপভোগ করছেন। শিশু-কিশোরদের ছোটাছুটি আর তরুণ-তরুণীদের ছবি তোলায় শরতের চরাঞ্চল হয়ে উঠছে প্রাণবন্ত।
পার কুয়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদ গোল্লা বলেন, শরৎ এলেই করতোয়ার চরের চেহারা বদলে যায়। বিস্তীর্ণ এলাকা সাদা কাশফুলে ছেয়ে যায়। ছুটির দিনে দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এখানে ঘুরতে আসেন। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী ও পরিবারের সদস্যদেরও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মমিনুল হক বলেন, শরৎ এলেই চরের পরিবেশ অন্যরকম হয়ে ওঠে। বিকেলে নদীর পাড় ধরে হাঁটলে মন ভালো হয়ে যায়। কাশফুল আর নদীর বাতাস মিলে জায়গাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
দর্শনার্থীরাও বলছেন, ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে করতোয়ার চর হতে পারে চমৎকার একটি জায়গা। নদীর নির্মল বাতাস, খোলা আকাশ ও সাদা কাশফুলের অপরূপ দৃশ্য মনকে প্রশান্ত করে। তাই সুযোগ পেলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে ছুটে আসছেন তারা।
নবাবগঞ্জ থেকে ঘুরতে আসা আজাদুল ও শুভ্র মিলন বলেন, কাশফুলের সৌন্দর্য খুবই ভালো লাগছে। পরিবার নিয়ে ছবি তোলা এবং নদীর পাড়ে বসে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটি সত্যিই অপরূপ।
তবে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের পাড়ি দিতে হয় করতোয়া নদী। পাশাপাশি কুয়েতপুর-হামিদপুর গ্রাম থেকে করতোয়া নদী পর্যন্ত সড়কটির বেহাল দশা ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি বর্তমানে অনেকটা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল সহজে ঘরে তুলতে পারবেন। একই সঙ্গে করতোয়ার চরের কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসা দর্শনার্থীদের যাতায়াতও সহজ হবে।
স্থানীয়দের মতে, করতোয়ার চরের কাশফুল ইতোমধ্যে পীরগঞ্জবাসীর কাছে শরতের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে ভবিষ্যতে জায়গাটি হয়ে উঠতে পারে স্থানীয় পর্যটন ও বিনোদনের একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র।
শরতের সাদা কাশফুল আর করতোয়ার শান্ত জলধারা যেন প্রকৃতির পক্ষ থেকে পীরগঞ্জবাসীর জন্য এক অনন্য উপহার। ঋতুর পালাবদলে কয়েক সপ্তাহের জন্য ফুটে ওঠা এই শুভ্র সৌন্দর্য এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের টেনে নিচ্ছে নদীর চরের নির্জন অথচ মায়াবী পৃথিবীতে।