পৌনে ৬ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে ৮০ শতাংশ কাজই বাকি

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

সারাদেশ

সরকারি প্রায় পৌনে ৬ কোটি টাকার বরাদ্দে নেওয়া সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। গুরুত্বপূর্ণ

2026-10-03T16:40:44+00:00
2026-10-03T16:40:44+00:00
  মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
পৌনে ৬ কোটি টাকার সড়ক প্রকল্পে ৮০ শতাংশ কাজই বাকি
মেয়াদ শেষ, ২৮ দিনের বেশি বন্ধ কাজ; ঠিকাদারকে শোকজ, জামানত বাজেয়াপ্ত ও ব্ল্যাকলিস্টের হুঁশিয়ারি
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সরকারি প্রায় পৌনে ৬ কোটি টাকার বরাদ্দে নেওয়া সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক, চা-বাগান সংশ্লিষ্টরা এবং পর্যটকেরা। সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও কাদাপানির দুর্ভোগ।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের রাধানগর-মোহাজেরাবাদ সড়কের এমন পরিস্থিতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব ও কাজের লিখিত পরিকল্পনা জমা না দিলে জামানত বাজেয়াপ্ত, চুক্তি বাতিল এবং প্রতিষ্ঠানটিকে ব্ল্যাকলিস্ট করার সুপারিশের কথা জানানো হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্প (২য় পর্যায়)’ এর আওতায় শ্রীমঙ্গল জিসি (রাধানগর) থেকে বিষামনি বাজার হয়ে মোহাজেরাবাদ বাজার পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৬০ মিটার সড়ক পুনর্বাসনের কাজ পায় বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মেহেদী হাসান চৌধুরী।

প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৬ কোটি ২৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা। চূড়ান্তভাবে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ৫২ হাজার ৫৫১ টাকায় চুক্তি হয়। জামানত হিসেবে ব্যাংকে রয়েছে ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৬২৭ টাকা।

চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়ার পর ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের মাত্র ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৮০ শতাংশ কাজ এখনো পড়ে আছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী (নকশাকার) সঞ্জয় কুমার পণ্ডিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে তিনি সাইটে কোনো শ্রমিক বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পাননি। কাজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি সাইটও অরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া যায়।

এলজিইডি সূত্র বলছে, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব স্বাক্ষরিত চিঠিতে ঠিকাদারকে কৈফিয়ত তলব করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই টানা ২৮ দিনের বেশি কাজ বন্ধ রাখা চুক্তির শর্তের লঙ্ঘন। নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে উপসহকারী প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার লিখিত কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৬২৭ টাকার জামানত বাজেয়াপ্ত, চুক্তি বাতিল এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল ও ব্ল্যাকলিস্টের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীমঙ্গলের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের সামনে দিয়ে যাওয়া এই সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও কাদাপানি জমে আছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে জরুরি রোগী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চা-বাগান ও কৃষিপণ্যের পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে।

বিশেষ করে রাধানগর এলাকার লেবু ও আনারস চাষিরা সময়মতো পণ্য বাজারজাত করতে না পারায় অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের মুখে পড়ছেন বলে জানান স্থানীয়রা। চা-বাগান মালিকদেরও কাঁচা চা পাতা দ্রুত কারখানায় নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। সম্প্রতি এলাকাবাসীর একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখা করে দ্রুত মূল সড়কের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছে।

নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মানুষের চলাচলের জন্য সাময়িক বিকল্প ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে মানববন্ধনসহ কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের মালিক মেহেদী হাসান চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ভাই পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ফোন ধরেন। তিনি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘জয়’ নামে এক ব্যক্তি তাদের হয়ে কাজটি করছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে জানাবেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর দেবেন বলে জানান তিনি। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও আর কল রিসিভ করা হয়নি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রাকিব বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি এবং বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজ বন্ধ রাখার কারণে ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত কর্মপরিকল্পনা না দিলে জামানত বাজেয়াপ্ত ও ব্ল্যাকলিস্ট করার জন্য কঠোর সুপারিশ পাঠানো হবে।

মৌলভীবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাররুক আহমদ বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। শোকজের যথাযথ ও সন্তোষজনক জবাব না পেলে চুক্তি বাতিল করে নতুন দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, জনদুর্ভোগ বরদাশত করা হবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে নতুন প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট কাজ শেষ করার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: