সুতাং নদীর খনন করা বালু-মাটি নিয়ে লাখাইয়ে নানা অভিযোগ, নিলামের উদ্যোগ

লাখাই (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা

সারাদেশ

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে সুতাং নদী খননের পর বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা বালু-মাটি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের

2026-10-03T15:59:15+00:00
2026-10-03T15:59:15+00:00
  মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
সুতাং নদীর খনন করা বালু-মাটি নিয়ে লাখাইয়ে নানা অভিযোগ, নিলামের উদ্যোগ
লাখাই (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম 
ছবি : ভোরের ডাক

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে সুতাং নদী খননের পর বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা বালু-মাটি নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী খননের বালু-মাটি নিয়ে অনিয়ম ও বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এসব বালু-মাটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক হাসান বলেন, সুতাং নদী খননের কাজে শুধু তাঁর একার দায়িত্ব নেই; পানি উন্নয়ন বোর্ডেরও দায়িত্ব রয়েছে।

একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সদ্য বিদায়ী ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলামের সময়ে সুতাং নদী খননের বালু-মাটি প্রকাশ্যে নিলাম দেওয়া হয়েছিল। নিলামকারীরা প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা করে জমা দিলেও এখন পর্যন্ত নিলামের সমুদয় টাকা পরিশোধ করেননি। তারা সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।

নিলামকারী আজম মিয়া বলেন, নিলামে পাওয়া বালু-মাটি নিতে গেলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। তাই প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে নিলামের টাকা পরিশোধের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছেন তারা। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বিঘ্নে বালু-মাটি নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে নিলামের সমুদয় টাকা পরিশোধ করবেন বলেও জানান তিনি।

ইউএনও তারেক হাসান বলেন, নিলামকারীরা নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ ছাড়া উপজেলায় নদী খননের যেসব স্থানে বালু-মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে, সেসব বালু-মাটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে অর্থ জমা দেওয়া হবে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার) একরামুল হক বলেন, কিছু দিনের মধ্যে নিলামকৃত বালু-মাটি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর লাখাই, বামৈ ও বুল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে স্তূপ করে রাখা নদী খননের বালু-মাটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

বামৈ ইউনিয়নের ভাদিকারা অংশ থেকে বুল্লা ইউনিয়ন পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী শামীম ভূঁইয়া বলেন, সাইফুল ইসলাম লিখিত আবেদন করে নদী খননের বালু-মাটি কৃষকের ফসলি জমিতে স্তূপ করে রাখার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সেখানে বালু-মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, বোর্ডের সভায় আলোচনা করে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নদী খননের সব বালু-মাটি নিলামের আওতায় এনে বিক্রি করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট বিদায়ী ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম লাখাই ইউনিয়নের ১১টি স্থানে স্তূপ করে রাখা বালু-মাটির মধ্যে ছয়টি স্থানের বালু-মাটি প্রকাশ্যে নিলাম দেন।

এদিকে সুতাং নদীর খনন করা বালু-মাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ বালু-মাটি নিয়ে ব্যবসা করছেন। কৃষকের ফসলি জমিতে মাটি ফেলে সেখানে অবৈধভাবে বালু-মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব বালু-মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। এ ছাড়া ইমরান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বালু-মাটি দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওই ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদী খননের সব বালু-মাটি সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী নিলামের আওতায় এনে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।



Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: