নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলে অভিযান চালিয়ে ৫০টি বক উদ্ধার করেছে পরিবেশকর্মীরা। এ সময় পাখি শিকারের অভিযোগে তিন শিকারিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে এক দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। পাশাপাশি পাখি ধরার ১০টি বিশেষ কিল্লা ঘর ধ্বংস করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে উপজেলা প্রশাসন ও রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের যৌথ নির্দেশনায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানটি উপজেলার আগমুরশন, বামিহাল, কাকিয়ান ও পূর্বভেংড়ী বিলের বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয়। এ সময় পাখি ধরার ফাঁদ থেকে ৫০টি বক উদ্ধার এবং তিন শিকারিকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিংড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুম প্রত্যেককে এক দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সিংড়ার পূর্বভেংড়ী গ্রামের আব্দুর রশিদ (৫৫), মকছেদ আলী (৫০) ও আবু হানিফ (৪০)।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, শিকারিরা পোষা বক ব্যবহার করে কিল্লা ঘর তৈরি করে অন্য বক ধরার ফাঁদ পাততেন। এসব কিল্লা ঘরে আটকে রাখা পোষা বকের ডাক শুনে বন্য বক কাছে এলে ফাঁদে আটকা পড়ত। অভিযানে এমন ১০টি কিল্লা ঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার করা ৫০টি বক পরে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়।
অভিযানে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, যুগ্ম সম্পাদক হাসিবুল হাসান শিমুল, প্রভাষক নাহমাদুল হকসহ সংগঠনের সদস্য ও পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম বলেন, শীত মৌসুম সামনে রেখে চলনবিলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আনাগোনা বাড়ে। এ সময় একটি অসাধু চক্র সুযোগ নিয়ে পাখি শিকারে সক্রিয় হয়ে ওঠে। পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ২০১২ সাল থেকে সংগঠনটি দুর্গম বিলগুলোতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও অভিযান চালিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, চলনবিলের পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাদের অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।