বাজারে আবারও দেখা দিয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক, দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বেড়েছে লিটারে ২ থেকে ৪ টাকা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ভোজ্যতেল কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এরই মধ্যে তেলের দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, পলাশী বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। কোনো দোকানে এক লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কোথাও দুই লিটারের বোতল নেই। কয়েকটি দোকানে অল্প কিছু বোতল থাকলেও সেগুলো প্রকাশ্যে না রেখে সংরক্ষণ করে রাখছেন বিক্রেতারা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমান আলী বলেন, প্রতিদিন তার প্রায় ১০ কার্টন সয়াবিন তেল প্রয়োজন হলেও ডিলারের কাছ থেকে পেয়েছেন মাত্র চার কার্টন। নিয়মিত ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে তাই কিছু তেল আলাদা করে রাখতে হচ্ছে।
তিন দফায় সরবরাহ সংকট
চলতি বছর এরই মধ্যে কয়েক দফা বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সংকটের পর এপ্রিলের শেষ দিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়।
জুলাইয়ে আবার সরবরাহে সংকট তৈরি হয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এবার আবারও বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ চলতি বছর এটি তেলের বাজারে তৃতীয় দফার বড় ধরনের সরবরাহ সংকট।
দাম বাড়ানোর দাবি কোম্পানিগুলোর
দেশের ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সয়াবিন তেলের দাম আরও বাড়াতে চায়। এ বিষয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
তবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। বুধবার সিলেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও যাচাই-বাছাই করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
খোলা তেলের দামও বেড়েছে
বোতলজাত সয়াবিনের সংকটের প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারেও। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা হয়েছে। একই সময়ে খোলা পাম তেলের দাম বেড়ে হয়েছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা লিটার।
ফলে বিকল্প হিসেবে খোলা তেল কিনতে গিয়েও বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
ডিম-মুরগি-মাছেও বাড়তি চাপ
তেলের পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে ডিমের দামও বেড়েছে। প্রতি ডজন ডিমে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকা।
অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রায় দুই মাস ধরে কেজিপ্রতি ২০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের মাছও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। বাজারে রুই মাছ কেজি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের পাশাপাশি ডিম, মুরগি ও মাছের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার নিরাপত্তারক্ষী আনসার হোসেন বলেন, আয় সীমিত হওয়ায় ব্রয়লার মুরগি ও ডিমই ভরসা। কিন্তু এসব পণ্যের দাম দীর্ঘদিন ধরে বেশি থাকায় সংসারের খরচ সামলাতে কষ্ট হচ্ছে।