
চুক্তিতে বিমানের পক্ষে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা সামনে রেখেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন রুট চালুর পাশাপাশি যাত্রী ও যোগাযোগের চাহিদা বিবেচনায় বিমানের বহরে আরও উড়োজাহাজ যুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই প্রয়োজন থেকেই বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি করা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বিস্তারের ক্ষেত্রে চুক্তিটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন। তিনি বলেন, বিমানের বহর পরিকল্পনার প্রয়োজন বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রুমী এ হোসেন আরও বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও দেশের সাধারণ যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বিমানের সঙ্গে বোয়িংয়ের নতুন চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় দেশের জন্য ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ।
নতুন ১১টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তটি বিমানের আগের ক্রয় পরিকল্পনার অতিরিক্ত। বিমান কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে করা ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তির আওতায় ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা ছিল। নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় বোয়িং থেকে বিমানের পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২৫টিতে।
তবে নতুন ১১টি উড়োজাহাজের নির্দিষ্ট মডেল, মোট মূল্য, অর্থায়ন পদ্ধতি এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে আরও ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার একটি পৃথক প্রস্তাবও বিবেচনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।