দেশে নতুন করে চারটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককেও লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক চালুর প্রক্রিয়ায় এগিয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো—ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক এবং বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক।
ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটানের উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক। বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা। নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ। আর বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানকে এখন এলওআই দেওয়া হবে। এলওআই চূড়ান্ত ব্যাংকিং লাইসেন্স নয়; এতে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও শর্ত পূরণ শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিতীয় দফায় ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। এসব আবেদনকারীর মধ্যে ছিল মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, টেলিকম কোম্পানি, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ ডিজিটাল ব্যাংক ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য এলওআই দিয়েছিল। পরে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আওতায় আসে এবং কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে শর্ত পূরণের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। এবার কড়িকে এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়াটি আবারও এগিয়ে গেল।
ডিজিটাল ব্যাংকের কার্যক্রম মূলত অনলাইনভিত্তিক। শাখাভিত্তিক প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের পরিবর্তে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার কাঠামো রয়েছে এসব ব্যাংকের। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারিত রয়েছে।