রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের চলাচলের ফুটপাত পুনরায় দখল করা হলে আরও কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানস্থল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গতকালের উচ্ছেদ অভিযানে সংঘর্ষে আহত সাংবাদিক সিফাতের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসায় গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেন এবং মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তারা ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সাংবাদিকদের প্রশাসক বলেন, ফুটপাতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তা চলমান থাকবে। জনগণের চলাচলের পথ আবার কেউ দখল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জনগণের পথ চলাচলের ফুটপাত জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। কেউ আবার বসলে আরও দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তবে উচ্ছেদ অভিযান ও হকারদের বিষয়ে কারও যৌক্তিক পরামর্শ থাকলে তা বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, হকারদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তাদের সম্মতির ভিত্তিতে বিকল্প স্থানে ব্যবসার সুযোগ দিতে ২০৪টি রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা নির্ধারিত জায়গায় না থেকে আবারও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করতে চাইছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, হকাররা ব্যবসা করবেন, তবে ফুটপাত দখল করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে নয়। তাদের জন্য নির্ধারিত স্থানেই ব্যবসা করতে হবে।
মিরপুর-১০-এর উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে আহত সাংবাদিক সিফাতের বাসায় গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন প্রশাসক। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন।
প্রশাসক বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অভিযানের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিএনসিসি সবসময় সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকায় নাগরিক সেবা ও জনদুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান প্রশাসক।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও নৈতিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে ঢাকাকে সবুজ ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উচ্ছেদ অভিযান সফল করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সিটি করপোরেশনের অভিযান পরিচালনাকারী দলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।