বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় (রোডক্র্যাশ) তরুণ ও যুবকদের হতাহত হওয়ার হার উদ্বেগজনক। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরুণদের সম্পৃক্ততা ও প্রাণহানির ঘটনা বেশি হওয়ায় তাদের নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ যানবাহন, মানসম্মত হেলমেট, সিটবেল্ট ও দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন তরুণরা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইনের পক্ষে তরুণদের আহ্বান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, তরুণদের একটি বড় অংশ মোটরসাইকেল ব্যবহার করায় অতিরিক্ত গতি, হেলমেটের সঠিক ব্যবহার না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের মতো আচরণের কারণে তারা সড়কে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই তরুণদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় নিরাপদ যানবাহন, গতি নিয়ন্ত্রণ, মানসম্মত হেলমেট এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ‘রোড সেফটি আইন কেন দরকার ও তরুণদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেশনে সড়ক নিরাপত্তায় তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহার সঞ্চালনায় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।
এ সময় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সদস্য মো. ইস্তিয়াক ইমন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সদস্য মো. ইফরাত হোসাইন, স্বেচ্ছাসেবক সমন্বয়কারী মো. আরমান হোসাইন রায়েদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্ট সোসাইটির সদস্য নওশীন নাওয়ার আচল।
বক্তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে বিশ্বব্যাপী ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অন্যতম। অতিরিক্ত গতি, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারে অনীহা এবং দুর্ঘটনার পর দ্রুত চিকিৎসা ও জরুরি সেবা না পাওয়ায় দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
তারা বলেন, সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু চালক বা পথচারীর আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে যানবাহনের নিরাপত্তা, গতি নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ব্যবহারকারীর আচরণ এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সেবাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের মতামত ও উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।