কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল, থাকছে বিচ ম্যারাথন-ফুড ফেস্টিভ্যাল

ভোরের ডাক ডেস্ক

রাজধানী

দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের লক্ষ্যে আগামী ২৩ ও ২৪

2026-09-28T20:01:01+00:00
2026-09-28T20:01:01+00:00
  মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানী
কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল, থাকছে বিচ ম্যারাথন-ফুড ফেস্টিভ্যাল
ভোরের ডাক ডেস্ক
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশের লক্ষ্যে আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হবে ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্নিভালে থাকছে বিচ ফুটবল, বিচ ম্যারাথন, সি-ফুড ও আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল, ঘুড়ি উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন।

কার্নিভালের বিস্তারিত তুলে ধরতে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. সামীমুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থাটির পরিচালক (বাণিজ্যিক) ও গ্রেড-২ মো. গণী উল আজম।

অনুষ্ঠানে দুই দিনব্যাপী কার্নিভালের কর্মসূচি তুলে ধরে চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটা বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন গন্তব্য। একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অনন্য সুযোগ, সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য, উপকূলীয় প্রকৃতি, রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও স্থানীয় মানুষের জীবনধারা কুয়াকাটাকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

তিনি বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা দেশ-বিদেশে তুলে ধরার পাশাপাশি এ খাতের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। স্থানীয় মানুষকে পর্যটন অর্থনীতির সক্রিয় অংশীদার করা গেলে তাঁদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’ কেবল বিনোদনমূলক আয়োজন নয়; বরং কুয়াকাটাকে বহুমাত্রিক, টেকসই ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার, পণ্য, খেলাধুলা ও জীবনধারা পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা হবে।

কার্নিভালের প্রথম দিন ২৩ অক্টোবর সকালে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিচ ফুটবল দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

প্রথম দিনের অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সি-ফুড ও আদিবাসী ফুড ফেস্টিভ্যাল, বিচ ফুটবলের ফাইনাল, লেম্বুর বনে ভ্রমণ, ঘুড়ি উৎসব, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সূর্যাস্ত উপভোগ। সন্ধ্যায় থাকছে পুঁথি পাঠের আসর, রাখাইন সম্প্রদায়ের পরিবেশনা, দেশীয় ফ্যাশন শো ও মিউজিক কনসার্ট।

দ্বিতীয় দিন ২৪ অক্টোবর সকালে অনুষ্ঠিত হবে বিচ ম্যারাথন। এ ছাড়া গঙ্গামতির চরে সূর্যোদয় দর্শন ও পিঠা উৎসব, চর বিজয়ের উদ্দেশে আনন্দভ্রমণ এবং সেলিব্রিটি বিচ ক্রিকেটের আয়োজন থাকবে।

দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বাউল গানের আসর, দেশীয় ফ্যাশন শো, স্থানীয় স্কুলের শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কমেডি শো ও সংগীতানুষ্ঠান। সবশেষে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী কার্নিভালের সমাপ্তি ঘটবে।

মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, পর্যটনসেবা প্রদানকারী, পরিবহনকর্মী, গাইড, হস্তশিল্পী ও খাদ্য উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যটন একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক ক্ষেত্র।

তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কুয়াকাটার পর্যটন উন্নয়নে স্থানীয় অর্থনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পর্যটকসেবার মানোন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। কুয়াকাটাকে আরও পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, পর্যটকবান্ধব ও টেকসই পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

কার্নিভালের প্রচার ও ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় মানুষের জীবনধারা, সংস্কৃতি, খাবার ও কার্নিভালের বিভিন্ন আয়োজন গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ কুয়াকাটা ভ্রমণে আরও উৎসাহিত হবেন। পাশাপাশি ডিজিটাল ও অনলাইন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কুয়াকাটার পরিচিতি বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্রসৈকত হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, স্থানীয় জীবনধারা ও আতিথেয়তার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিতি লাভ করুক।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আশা করছে, ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’ কুয়াকাটার পর্যটন ব্র্যান্ডিংয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।

মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের কয়েকজন তারকা এবং কার্নিভাল বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাকশন কাট এন্টারটেইনমেন্ট, ঢাকা টকিজ ও সানফ্লাওয়ার ৩৬০-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: