রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় আরও কয়েকজনসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শনিবারের হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় মামলার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জানিয়েছে, চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে চাঁদ উদ্যানের ‘রোজ ভিলা’ সংলগ্ন একটি জমিতে থাকা কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় একদল লোক কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মালামাল সরিয়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, স্থানীয় আলমের দখলে থাকা ওই জমিতে শনিবার সকালে জনি ও রেজাউলের নেতৃত্বে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল যায়। তারা জমির টিনের বেড়া ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। পরে সেখানে নতুন করে টিনের বেড়া দিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করা হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় কার্যালয়ের কর্মী আনোয়ার হোসেন রিপন রোববার মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে একই মামলায় মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর বাসা থেকে ২৩ বছর বয়সী লিমন এবং বাঁশবাড়ি এলাকা থেকে ২৫ বছর বয়সী মনোয়ার হোসেন সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুক্তির ভিত্তিতে ছিনতাই ও জমি দখলের কাজে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও ছিনতাই ও মারামারির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, সংশ্লিষ্ট জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, আদালত যে পক্ষের পক্ষে রায় দেবেন, আইনগতভাবে সেই পক্ষই জমিটির অধিকার পাবে।
চাঁদ উদ্যানে জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।