রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় ক্রয় করা জমি দীর্ঘদিন বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ এবং পরবর্তীতে জমি পুনরুদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির দাবিদার মোহাম্মদ মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী।
রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় মো. শামসুজ্জামান স্বপন, রেজাউল করিম, মোহাম্মদ ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে খোকন চৌধুরী বলেন, ২০২২ সালে মোহাম্মদপুর থানার চাঁদ উদ্যান এলাকার কাটাসুর মৌজায় সিটি জরিপের ৫৮৩৪ নম্বর দাগের অন্তর্ভুক্ত ৩৮৫১ ও ৩৯২২ নম্বর খতিয়ানের মোট ৩২ দশমিক ১০ শতাংশ জমি দুটি পৃথক দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন তিনি। এর মধ্যে একটি জমি মূল মালিকের কাছ থেকে এবং অপরটি বায়া দলিলের মালিকের কাছ থেকে কেনা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ক্রয়কৃত জমির একটি দলিলের ১৬ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হলেও অপর দলিলের ১৬ দশমিক ১০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও হস্তান্তর করা হয়নি। ওই জমিতে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে ভাড়াটিয়া বসিয়ে ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খোকন চৌধুরী আরও দাবি করেন, মূল মালিকদের বিভিন্ন ওয়ারিশ জমি বিক্রির পর অবশিষ্ট প্রায় ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ জমিও একইভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। পরে দাবিকৃত জমিতে নির্মিত ছাপড়া ঘর ভেঙে জায়গাটি উন্মুক্ত হওয়ার পরও জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বরং ওই জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জমিটি নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানতে পারেন।
খোকন চৌধুরীর দাবি, বিষয়টি জানার পর উন্মুক্ত জমিতে গিয়ে তারা জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেন এবং সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। এ সময় কোনো বাড়িঘরে প্রবেশ বা কারও সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, জমি পুনরুদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এমন কিছু সংবাদ প্রচার করা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এমনকি অন্য একটি ঘটনার, বিশেষ করে কিশোর গ্যাংয়ের কথিত লুটপাটের ভিডিও তাদের জমি পুনরুদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ধরনের সংবাদে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে দাবি করে সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদ জানান খোকন চৌধুরী।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো একটি পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে জমির মূল দলিল, বায়া দলিল, খতিয়ান ও দাগ নম্বর যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের সরকারি রেকর্ড, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, সরেজমিন পরিস্থিতি এবং প্রচারিত ভিডিও-ছবির প্রকৃত উৎস যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
খোকন চৌধুরী বলেন, আদালত বা থানায় এ বিষয়ে কোনো মামলা কিংবা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নথিও যাচাই করা প্রয়োজন। তারা প্রয়োজনীয় দলিলপত্র, সরকারি নথি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পক্ষে নন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশই তাদের প্রত্যাশা।