রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর পৌর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পরিমাপে ভয়াবহ কারচুপির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একটি অকটেন ও চারটি ডিজেল ডিসপেন্সিং ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৩০০ থেকে ৫৩০ মিলিলিটার পর্যন্ত তেল কম দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
অনিয়ম ধরা পড়ার পর ফিলিং স্টেশনের পাঁচটি ডিসপেন্সিং ইউনিটই বন্ধ করে দিয়েছে বিএসটিআই। একই সঙ্গে পাঁচটি মামলায় মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার বিএসটিআইয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ অনিয়ম ধরা পড়ে।
অভিযানকালে পাঁচটি ডিসপেন্সিং ইউনিটের তেল সরবরাহের পরিমাণ যাচাই করা হয়। এতে অকটেনের একটি ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৫৩০ মিলিলিটারের বেশি তেল কম পাওয়া যায়। আর ডিজেলের চারটি ইউনিটে যথাক্রমে ৩৩০, ৩০০, ৩৪০ ও ৩২০ মিলিলিটার করে তেল কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি তেল পরিমাপে অনুমোদিত সহনীয় সীমা প্রতি ১০ লিটারে মাত্র ৩০ মিলিলিটার। কিন্তু পৌর ফিলিং স্টেশনের প্রতিটি ইউনিটেই সেই সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ঘাটতি পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী পাঁচটি মামলা করা হয়। মামলাগুলোতে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ডিসপেন্সিং ইউনিট বন্ধ করে দ্রুত পরিমাপযন্ত্র সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের সময় ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, প্রতিষ্ঠানটি থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রতিদিন আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ লিটার এবং অন্যান্য যানবাহন প্রায় ৫ হাজার লিটার অকটেন ও ডিজেল কিনে থাকে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হওয়া প্রতিষ্ঠানটির সবগুলো ইউনিটেই পরিমাপে ঘাটতি পাওয়ায় ভোক্তাদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
বিএসটিআই জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত এবং ভোক্তাস্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।