একদিকে নিধন আরেকদিকে জন্মাচ্ছে এডিস

সাইদুল ইসলাম

রাজধানী

বর্ষা বা গ্রীষ্ম সব মৌসুমেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক বছর ধরে এভাবে চললেও এর কার্যকর প্রতিকার

2026-09-29T11:57:27+00:00
2026-09-29T11:57:27+00:00
  বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানী
একদিকে নিধন আরেকদিকে জন্মাচ্ছে এডিস
কুল পাচ্ছে না দুই সিটি
সাইদুল ইসলাম
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বর্ষা বা গ্রীষ্ম সব মৌসুমেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক বছর ধরে এভাবে চললেও এর কার্যকর প্রতিকার নেই। বিশেষ করে রাজধানীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেশি হচ্ছে। গতকাল সোমবারও ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু ও আক্রান্ত হয়েছেন ২০৩৬ জন। চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৭৫ হাজার জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৩৩ জন। তবে সরকারি হিসেবের চেয়ে মৃত্যু ও আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন একদিকে নিধন করলেও আরেকদিকে জন্মাচ্ছে এডিস মশা। একই এলাকায় বারবার মশার প্রজনন ঘটায় নিধন করতে গিয়ে কুল পাচ্ছে না ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খুব একটা কাজে না আশায় প্রতি বছর মুত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সাথে ডেঙ্গু আক্রান্তদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক দুর্বলতা, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় ডেঙ্গুর কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তির দিকে এগুনোর বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, রাজধানীতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবুও থামছে না এডিস মশার বংশবিস্তার। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় একদিকে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা মশার লার্ভা ধ্বংস ও ওষুধ ছিটাচ্ছেন, অন্যদিকে বাসাবাড়ি, ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও আঙিনায় জমে থাকা পানিতে নতুন করে জন্ম নিচ্ছে এডিস মশা। ফলে একদিকে নিধন, অন্যদিকে জন্ম এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। তবে বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র বলে জানিয়েছে দক্ষিণ সিটি। সম্প্রতি প্রাক-বর্ষা জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থান জমে থাকা পানি মুক্ত রাখতে নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। দুই সিটি জানিয়েছে, বৃষ্টির পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকার প্রবণতা বাড়ায় এডিস মশার প্রজননের সুযোগও তৈরি হচ্ছে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত বালতি, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, নির্মাণসামগ্রীর ফাঁকা অংশ কিংবা ছাদে পড়ে থাকা যেকোনো পাত্রে অল্প পরিমাণ পানি জমলেও সেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে।জানা যায়, প্রতি বর্ষা মৌসুমে মূলত রাজধানীতে এডিস মশার উপদ্রব দেখা দেয়ার কথা থাকলেও গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা না থাকলেও ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এতে প্রতি নিয়ত আতঙ্কে থাকছে নগরবাসী। তবে এর দুই সিটির পক্ষ থেকে নগরবাসীকেই দোষারোপ করা হচ্ছে। কারণ নগরীর বাসার আঙ্গিনা, অফিস আদালতের জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতেই এডিস মশার জন্ম বেশি হচ্ছে। ফলে দুই সিটি থেকে বারবার বলা হচ্ছে যার যার ঘর, বাড়ি, অফিস, আদালতে তিন দিনের বেশি যেন কোন পানি জমে না থাকে। কিন্তু এ বিষয়ে কর্ণপাত না করায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছে দুই সিটি। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু সড়ক, ড্রেন কিংবা উন্মুক্ত স্থানে ওষুধ ছিটালেই হবে না। মশার প্রধান প্রজননস্থলগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করা জরুরি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা পানির উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে মশক নিধন কার্যক্রমের সুফল আসবে না। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জ্বর বা অসুস্থ হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগে থেকেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দিনের বেলায় এডিস মশার কামড় থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।নগরবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম দেখা গেলেও কয়েক ঘণ্টা বা একদিন পরই আবার মশার উপদ্রব বাড়ছে। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানিতে লার্ভা দেখা গেলেও তা দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে না। ফলে একই এলাকায় বারবার মশার প্রজনন ঘটছে।এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহে অন্তত একদিন বাড়ির ছাদ, বারান্দা, আঙিনা, ফুলের টব এবং অন্যান্য স্থানে পানি জমে আছে কি না তা পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পানি জমে থাকলে তা ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি যেসব পাত্রে পানি রাখা প্রয়োজন, সেগুলো ঢেকে রাখার কথাও বলা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ নগরীর প্রতিটি বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তৈরি হওয়া ছোট ছোট প্রজননস্থল একসঙ্গে বড় ধরনের মশার উৎসে পরিণত হতে পারে। তাই রাজধানীতে একদিকে মশা নিধন, অন্যদিকে নতুন করে এডিসের জন্ম এই চক্র ভাঙতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়মিত লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংস, পানি জমতে না দেওয়া এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সাফল্য পাওয়া কঠিন বলে মনে করছেন তারা। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বড় জলাশয়ের চেয়ে বাসাবাড়ির আশপাশে থাকা ছোট ছোট পানির পাত্র ও জমে থাকা পানিই অনেক সময় মশার প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে ওঠে। একটি বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে জমে থাকা সামান্য পানিও এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য যথেষ্ট হতে পারে। নগরবাসীর অভিযোগ, মশক নিধনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান ও ওষুধ ছিটানো হলেও নিয়মিতভাবে সব প্রজননস্থল ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ব্যক্তিগত বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে জমে থাকা পানির বিষয়ে নজরদারি কম থাকায় সেখান থেকে আবারও মশার বিস্তার ঘটছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু উড়ন্ত মশা নিধন করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একই সাথে  এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস এবং নতুন করে যাতে পানি জমতে না পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি বাড়ির মালিক, ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটি ও সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ডেঙ্গু থেকে মানুষকে রক্ষায় একটি জাতীয় পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। জাতীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে এডিস রোগ নিয়ন্ত্রণে কী কী করা যায় বিশ্লেষণ করে সব স্টেকহোল্ডারকে সঙ্গে নিয়ে একটি জাতীয় পরিকল্পনা করতে হবে। এছাড়া, মশা জন্মানোর তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যারা এর নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন তারা টার্গেট করে মশা নিধন করতে হবে। এডিস মশা যেখানে হয় সেখানে টার্গেট করে তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু যেটা হচ্ছে না।  কেন হচ্ছে না সেটা বের করতে হবে। না হয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।  ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও বলেন, “প্রাক-বর্ষা জরিপে দেখা গেছে, বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিই এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থান জমে থাকা পানি মুক্ত রাখতে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকরা এগিয়ে এলেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং তথ্যনির্ভর মশক নিধন কার্যক্রমের লক্ষ্যে ডিএসসিসির উদ্যোগে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ-২০২৬ শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার নগর ভবনে এ জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে আবদুস সালাম এ কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খয়বর রহমান, সচিব মোঃ মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মোঃ মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। চলমান এই জরিপ গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়ন ভিত্তিতে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জরিপের মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের মধ্যে মশার প্রাদুর্ভাব ও লার্ভার প্রধান উৎসগুলো চিহ্নিত করা হবে। ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার মোট ৭২ জন মাঠকর্মী এই জরিপে অংশ নিচ্ছেন। তথ্যের স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স  অ্যাপ্লিকেশন। জরিপ শেষে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রেটু ইনডেক্স, হাউস ইনডেক্স, কনটেইনার ইনডেক্স  এবং পিউপা ইনডেক্স  নির্ধারণ করা হবে। জরিপের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে চিহ্নিত হটস্পটগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামসহ মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে পরিচালিত বর্ষাপূর্ব জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডে লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায় এবং ২৭টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই জরিপের ওপর ভিত্তি করেই সিটি কর্পোরেশন এলাকাগুলোতে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেছিল।















Loading...
Loading...

রাজধানী- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: