রাজধানীর শ্যামলী খিলজী রোডের শ্যামলী পার্কে প্রকাশ্যে মাদকসেবনের অভিযোগ উঠেছে। পার্কের একদিকে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকলেও অন্য প্রান্তে কয়েকজন কিশোর-তরুণকে প্রকাশ্যে মাদকসেবন করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এতে পার্কে ঘুরতে আসা নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে অস্বস্তি ও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকসেবীদের আড্ডার কারণে অনেকেই পার্কের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা এড়িয়ে চলছেন।
সরেজমিনে গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে পার্কটিতে গিয়ে দেখা যায়, এক পাশে শিশুরা ফুটবল খেলছে। কেউ দর্শক গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছেন, আবার কেউ ওয়াকওয়েতে হাঁটছেন। শিশুদের জন্য রয়েছে কয়েকটি বিনোদন উপকরণ এবং দর্শনার্থীদের বসার ব্যবস্থাও।
তবে দর্শক গ্যালারির পেছনের বসার জায়গায় কয়েকজন কিশোর-তরুণকে প্রকাশ্যে মাদকসেবন করতে দেখা যায়। ওই এলাকায় মাদকের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় পাশ দিয়ে চলাচলকারী দর্শনার্থীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েকজন তরুণ নিয়মিত পার্কের ভেতরে এসে গাঁজা সেবন করেন। তাদের আড্ডার জায়গাগুলো এড়িয়ে চলেই পার্কে হাঁটাচলা করতে হয়।
আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভীতিকর হয়ে ওঠে। মাদকসেবীদের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর আশঙ্কায় অনেকে প্রতিবাদ করেন না।
চার বছরের মেয়েকে নিয়ে পার্কে আসা বাবর রোডের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, শিশুদের নিয়ে একটু স্বস্তিতে সময় কাটানোর জন্য পার্কে আসেন তারা। কিন্তু শিশুদের খেলার জায়গার আশপাশে মাদকসেবন ও ধূমপানের দৃশ্য থাকায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন।
ছয় বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে পার্কে আসা রেহানা পারভীনও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার মতে, মাদকসেবীদের কারণে শিশুদের নিয়ে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতেও ভয় লাগে।
পার্কে খেলতে আসা এক যুবক বলেন, কিছুদিন ধরে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। তাদের ভয়ে খেলতে আসা অনেকেই মোবাইল ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে সতর্ক থাকেন। প্রতিবাদ করলে হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পার্কে নিয়মিত পুলিশি নজরদারি না থাকায় মাদকসেবীরা সেখানে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, রাতের দিকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
এদিকে পার্কের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে পার্ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কোনো মোবাইল নম্বরও দিতে চাননি তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্কটির দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে বর্তমানে এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগের ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে যাওয়ার পর পার্কটির দেখভাল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন, পার্কের বৈদ্যুতিক লাইনের তার ও সিসি ক্যামেরা চুরি হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়াতে পরে বড় লাইট স্থাপন করা হলেও পার্কের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
পার্কে মাদকসেবন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, বিষয়টি জানার পর পুলিশ টিম সেখানে গিয়ে অভিযান চালাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের দাবি, শিশু-কিশোরদের বিনোদন এবং নগরবাসীর হাঁটাচলার জন্য ব্যবহৃত এই পার্কে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।