রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট দুই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত একজনসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সূত্রে জানা যায়, মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে বুধবার হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও ডিএনসিসির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের একটি গাড়ি ও একটি ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর করা হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীও হামলার শিকার হন।
পরে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর মিরপুর মডেল থানায় দুটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় করা দুটি মামলার বাদী পুলিশ। অপর দুটি মামলার বাদী ডিএনসিসির কর্মকর্তারা।
পুলিশ জানায়, চার মামলার প্রতিটিতে ৫০০ জন করে মোট দুই হাজার আসামি করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, আহত করা, সরকারি কাজে বাধা, সরকারি গাড়ি ও ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশের মামলাগুলো করা হয়েছে। অন্যদিকে, ডিএনসিসির মামলায় সংস্থার গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, তাঁর থানায় হওয়া মামলায় এজাহারভুক্ত একজনসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ২৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ডিএনসিসির গাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগে তাঁর থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার বাদী ডিএনসিসির একজন কর্মকর্তা। তবে এখন পর্যন্ত এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় মিরপুর-১০ এলাকায় বুধবার দিনভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারি সম্পদ ক্ষয়ক্ষতি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত চলছে।