সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই নতুন পূর্বপাড়া গ্রামে ডাইং কারখানার কেমিক্যালযুক্ত বিষাক্ত বর্জ্যের পানিতে ২৭ মাস ধরে জলাবদ্ধতায় বন্দি কয়েকটি পরিবার। ঘর, উঠান, রান্নাঘর ও শৌচাগারে জমে থাকা কালো পানির দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। রান্নাঘরে পানি জমে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছে না চুলা। বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে গিয়ে কিংবা বিকল্প স্থানে রান্না করে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।
দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা। এ ঘটনায় আলী হাসান ও আবু তালহা নামের দুই ভুক্তভোগী বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডাইং কারখানার কেমিক্যাল মিশ্রিত কালো পানি তাঁদের বসতবাড়িতে জমে রয়েছে। বিষাক্ত বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রবে ঘরে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রান্নাঘরে পানি জমে থাকায় প্রতিদিনের খাবার তৈরি করতে তাঁদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এক গৃহবধূ বলেন, দিনমজুর স্বামীর সীমিত আয়ে সংসারের খরচ চালানোই কঠিন। এর মধ্যে বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম বেশি হওয়ায় সিলিন্ডার কেনার সামর্থ্য নেই। বাধ্য হয়ে কখনো শুকনো খাবার খেয়ে, আবার কখনো অন্যের বাড়িতে গিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিষাক্ত বর্জ্যের পানি পুরো বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান পাননি তাঁরা। দ্রুত পানি অপসারণ করা না হলে ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
এদিকে অভিযুক্ত ডাইং কারখানার মালিক হাজী আব্দুল মজিদ লাকীর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি সংবাদকর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। তবে পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ডাইং কারখানা মালিক সমিতির মধ্যস্থতায় সমস্যাটি সামাজিকভাবে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তামাই গ্রামের ডাইং কারখানা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মোন্নাফ জমিদার বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই সর্বসম্মতিক্রমে এর সুরাহা হবে।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান জানান, তামাই গ্রামে ডাইং কারখানার বর্জ্যসংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এ সমস্যার সমাধানে সামাজিক উদ্যোগের কোনো সুযোগ নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে অবিলম্বে দূষণকারী কারখানার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বসতবাড়িতে জমে থাকা বিষাক্ত পানি অপসারণ এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।