শিক্ষার্থীদের যুগের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সন্তানদের গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে দৈনিক ফেনীর সময় ও আলোকিত ফেনী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবারে, পরে শিক্ষকেরা তাদের শিক্ষিত করে তোলেন। একজন শিশু কেমন হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে অভিভাবকদের ওপর। তাই সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে অভিভাবকদের চিন্তাভাবনাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। অতীতের ধ্যানধারণা দিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে তাদের উপযুক্ত করে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তাদের সেই বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের এমন কোনো বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়, যাতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে তারা যেন কিশোর গ্যাং ও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও পুরস্কার দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক ও আলোকিত ফেনী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, ফেনী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ এনামুল হক খন্দকার, জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নান, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক ও আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত এবং স্টার লাইন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ফেনী ডায়াবেটিক সমিতির সহসভাপতি আ.ন.ম. আবদুর রহিম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহা. আলমগীর চৌধুরী, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খন্দকার এবং জেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মামুনুর রশিদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বৃত্তি পাওয়াই জীবনের শেষ অর্জন নয়, বরং এটি নতুন যাত্রার শুরু। শুধু পড়াশোনা করলেই হবে না, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার বিষয়েও জানতে হবে। পাশাপাশি বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। যারা স্বপ্ন দেখতে জানে, তারা সহজেই সফলতার পথে এগিয়ে যেতে পারে।