সিরাজগঞ্জে ১,০৫৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত পাঠদান

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা

সারাদেশ

সিরাজগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ১ হাজার ৬৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১

2026-09-30T17:43:55+00:00
2026-09-30T17:43:55+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
সিরাজগঞ্জে ১,০৫৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত পাঠদান
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
সিরাজগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার ১ হাজার ৬৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১ হাজার ৫৬টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে একদিকে বাড়ছে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের চাপ, অন্যদিকে নিয়মিত পাঠদানেও তৈরি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নয়টি উপজেলার প্রতিটিতেই প্রধান শিক্ষকের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে উল্লাপাড়া উপজেলায়।

উল্লাপাড়ার ২৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৬৮টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। কাজীপুরে ২৩৭টির মধ্যে ১৫৯টি, শাহজাদপুরে ২২৪টির মধ্যে ১৫৫টি, সিরাজগঞ্জ সদরে ২৪৮টির মধ্যে ১৪০টি, রায়গঞ্জে ১৮৫টির মধ্যে ১১৩টি, বেলকুচিতে ১৫৪টির মধ্যে ১০৩টি, তাড়াশে ১৩৬টির মধ্যে ৯৭টি, চৌহালীতে ১২৮টির মধ্যে ৯০টি এবং কামারখন্দে ৮৩টির মধ্যে ৩১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক না থাকায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে তাদের।

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের কারণে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, নথিপত্র সংরক্ষণ, দাপ্তরিক যোগাযোগ ও অন্যান্য দায়িত্বও তাদের ওপর পড়ছে।

রায়গঞ্জ উপজেলার দাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অর্চনা রানী বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে দাপ্তরিক কাজের চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানেও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

শুধু প্রধান শিক্ষক নয়, সহকারী শিক্ষক পদেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অনুমোদিত ৯ হাজার ৩৭৩টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৮ হাজার ৫২৬ জন। ফলে শূন্য রয়েছে ৮৪৭টি সহকারী শিক্ষক পদ।

প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক—দুই পদেই সংকট থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে সব শ্রেণিতে নিয়মিত ও কাঙ্ক্ষিত পাঠদান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাড়াশ উপজেলার পংরৌহালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকও কম। ফলে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের কারণে সব শ্রেণিতে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখতে বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বের ওপর নির্ভর করে বিদ্যালয় পরিচালনা করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: