চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কঠিন সমীকরণে সরকার

সুজন দে

জাতীয়

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একযোগে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ,

2026-09-30T12:59:22+00:00
2026-09-30T12:59:22+00:00
  বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
 
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
জাতীয়
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কঠিন সমীকরণে সরকার
সুজন দে
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম 
প্রতীকী ছবি

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একযোগে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বিএনপি সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, রাজনৈতিক পরিচয়ে অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দলগুলোর চাপও সামলাতে হচ্ছে সরকারকে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন। ফলে সরকারের সামনে এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক- দুই ধরনের চ্যালেঞ্জই রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দখল, হামলা, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারকে সবচেয়ে বেশি চাপে ফেলেছে। মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নাম আসায় সরকার ও দল- উভয়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধের অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এ ধরনের ঘটনায় সরকার ও বিএনপির জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, প্রকৃত বিএনপি নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজি, দখলদারি বা সন্ত্রাসে জড়িত নন। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার আতঙ্কিত নয়। কোনো ঘটনা ঘটলে গ্রেপ্তার, তদন্ত ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেছেন।

সম্প্রতি আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপরাধী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে সরকারের এসব অবস্থানের পরও বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করে অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এমন ঘটনা ঘটার সাহস কেউ পেত না। তিনি জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দ্রুত চালুর দাবি জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি জনজীবনের আরেক বড় চাপ দ্রব্যমূল্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। ফলে সরকারকে একদিকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হচ্ছে, অন্যদিকে জনঅসন্তোষও সামাল দিতে হচ্ছে।

এসবের পাশাপাশি সরকারের সামনে আরও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে এসেছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন। ২১ সেপ্টেম্বর সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির বৈঠকে বিএনপি অংশ নিলেও জামায়াত, এনসিপিসহ কয়েকটি দল তা বর্জন করে। বিএনপি বলছে, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া একতরফা হওয়া উচিত নয়।

অন্যদিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সাংবিধানিক সংস্কার চান।

এনসিপির পক্ষ থেকেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ওপর চাপ রয়েছে। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, সরকার সাংবিধানিক সংস্কারের প্রশ্নে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তাদের অঙ্গীকার রয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু সংস্কারের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এটি দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো ও সংসদীয় রাজনীতির গতিপথের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।

এর বাইরে বিরোধী দলগুলোর রাজপথের কর্মসূচি, সংসদের ভেতরের চাপ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মতপার্থক্যও সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিচ্ছিন্ন তৎপরতা ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় থাকতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠন এবং সাংবিধানিক সংস্কার—সব ক্ষেত্রেই সরকারকে একই সঙ্গে অগ্রগতি দেখাতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতাই আগামী দিনে সরকারের সাফল্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হয়ে উঠবে।



Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: