উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অযৌক্তিক বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবে (ডিপিপি) পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না বলেও তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। কারণগুলো কঠোরভাবে যাচাই করে অযৌক্তিক বিলম্বের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে চলমান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও গভীর ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে করার ওপর প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই হলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে।
যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরও চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।
আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে রংপুর বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগকে সমন্বিত করার কাজ চলছে বলেও জানান জোনায়েদ সাকি।
এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’–সংক্রান্ত অটোমেশন ব্যবস্থা।
এসব ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল তদারকি জোরদারের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
এ উদ্যোগের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে তদারকি আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।