সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোকে তামাক বা সিগারেট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে যেকোনো ধরণের গাছপালা, আর্থিক অনুদান, উপহার বা পৃষ্ঠপোষকতা গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস (বিটিসিএ)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এই বার্তা দেয়।
বিটিসিএ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে যে, বাংলাদেশের বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের 'সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি' (সিএসআর) বা এই ধরণের কোনো প্রচারণামূলক ইভেন্ট পরিচালনার আইনি সুযোগ নেই। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৫(৩) ধারা মতে, সিএসআর বা জনকল্যাণমূলক কাজের আড়ালে তামাক কোম্পানির নাম, সাইন বা প্রতীক ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিটিসিএ জানিয়েছে, সরকারের '৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ' কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) দেশের বিভিন্ন সংস্থাকে বিনামূল্যে চারা সরবরাহের প্রস্তাব দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, পরিবেশ বা জলবায়ু মোকাবিলার মতো জাতীয় সংবেদনশীল উদ্যোগকে তামাক কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্র্যান্ডিং ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
জনস্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক নীতিগুলোকে তামাক খাতের বাণিজ্যিক স্বার্থ থেকে মুক্ত রাখতে সরকারি কর্মকর্তা ও বেসরকারি সংস্থাসমূহকে 'ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল' (এফসিটিসি)-এর আর্টিকেল ৫.৩-এর নীতি অনুসরণের তাগিদ দেওয়া হয়।
বিটিসিএর পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ইকবাল মাসুদ, সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সুশান্ত সিনহা, আমিনুল ইসলাম সুজন, ফারহানা জামান লিজা, সৈয়দা অনন্যা রহমান, আবু রায়হান, সামিউল হাসান সজীব এবং ইব্রাহিম খলিল।