বহর সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এরই অংশ হিসেবে আগে চুক্তিবদ্ধ ১৪টি বোয়িংয়ের সঙ্গে এবার আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। ফলে সব মিলিয়ে বিমানের নতুন বোয়িং কেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫টিতে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ সালে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে থাকা ‘রাইট টু পারচেজ অ্যাডিশনাল এয়ারক্রাফট’ সুবিধার আওতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অতিরিক্ত ১১টি বোয়িং কেনার চুক্তি সই হয়।
নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি Boeing 787-10 ওয়াইডবডি এবং ছয়টি Boeing 737-8 Max ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। আগের চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে মোট ২৫টি বোয়িংয়ের মধ্যে থাকবে দুটি B787-9, ১৩টি B787-10 এবং ১০টি B737-8 Max।
অর্থাৎ, মোট ২৫টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৫টি হবে ওয়াইডবডি এবং ১০টি ন্যারোবডি।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০৩১ সালের নভেম্বরে প্রথম উড়োজাহাজটি বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবশেষ উড়োজাহাজ ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের জন্য বোয়িংয়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বিমান।
বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের কাছ থেকেও উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চারটি A350-900 ওয়াইডবডি এবং ছয়টি A321neo ন্যারোবডি উড়োজাহাজ কেনার লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।
বিমানের বহরকে ভবিষ্যতে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই করতে মিশ্র বহর বা ‘মিক্সড ফ্লিট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
যাত্রী চাহিদা, উড়োজাহাজের সক্ষমতা, ফ্লাইটের সম্ভাব্য যাত্রী সংখ্যা এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে ওয়াইডবডি ও ন্যারোবডি উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওয়াইডবডি উড়োজাহাজগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চ চাহিদার রুট এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘপথের রুটে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ন্যারোবডি উড়োজাহাজগুলো আঞ্চলিক ও স্বল্পদূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। একই সঙ্গে এগুলো বিমানের পুরোনো B737-800 উড়োজাহাজগুলোর বিকল্প হিসেবেও কাজ করবে।
বহর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের মডেল অনুসরণ করার কথা জানিয়েছে বিমান। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তুলনামূলক ছোট একটি লিগ্যাসি ক্যারিয়ার থেকে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বহর বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজে পৌঁছেছে। বিপরীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ।
বিমান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বাংলাদেশের জিডিপি ও বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী চাহিদা ইথিওপিয়ার তুলনায় বেশি হলেও দেশের মোট বিমান পরিবহন চাহিদার ২০ শতাংশের কিছু বেশি পূরণ করতে পারছে বিমান। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করছে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো।
এই পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের স্বল্পতা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রুটে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ক্রয় পরিকল্পনার পেছনে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই।
নতুন উড়োজাহাজ কেনার অর্থায়ন নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিমান। সংস্থাটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হওয়ায় নিজস্ব আয় এবং উপযুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে ক্রয়মূল্য পরিশোধ করা হবে।
উড়োজাহাজগুলো একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে। একইভাবে ক্রয়মূল্যও পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুট থেকে সম্ভাব্য আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় নতুন উড়োজাহাজ কেনার কারণে সরাসরি সরকারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না।