মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দেওছড়া চা বাগানে কাঁচা চা পাতা চুরিতে বাধা দেওয়ায় এক পাহারাদারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় রামরাজ গৌড় রাজু (৪৫) নামে ওই পাহারাদার গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় ক্যামেলিয়া হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার সকালে দেওছড়া চা বাগানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করেছেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
বাগান কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার ভোররাতে পার্শ্ববর্তী বস্তির লোকমান মিয়া, তাহির মিয়া, সালমান মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি দেওছড়া চা বাগানের টিলা এলাকায় প্রবেশ করেন। তারা কাঁচা চা পাতা সংগ্রহ করে কয়েকটি বস্তায় ভরছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় বাগানের পাহারাদার রামরাজ গৌড় তাদের বাধা দিলে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বাগানের শ্রমিকরা। চা পাতা চুরি ও পাহারাদারের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা বাগানের কালিমন্দির সংলগ্ন মাঠে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন।
সভায় বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি শংকর রবিদাসের সভাপতিত্বে এবং লছমি মাদ্রাজির সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শমশেরনগর চা বাগানের ব্যবস্থাপক কামরুল জামান, ইউপি সদস্য ইয়াকুব মিয়া, মোহনলাল রবিদাস, নমিতা সিং, বাগান পঞ্চায়েত সম্পাদক লক্ষ্মীনারায়ণ রবিদাস ও দিলিপ নাইডুসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাগানের বিভিন্ন সেকশনের টিলা থেকে পার্শ্ববর্তী বস্তির কিছু লোক অবৈধভাবে প্রবেশ করে কাঁচা চা পাতা নিয়ে যাচ্ছে। এতে বাগানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
তাদের অভিযোগ, চা পাতা চুরি অব্যাহত থাকায় নারী শ্রমিকরা টিলায় গিয়ে অনেক সময় গাছে প্রয়োজনীয় পাতা পান না। ফলে তাদের নির্ধারিত কাজ বা ‘নিরিখ’ পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিবাদ সভা থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা আরও বলেন, চা পাতা চুরি ও বাগানের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো ঘটনা বন্ধ করা না গেলে চা শিল্প ও শ্রমিক—দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করা হচ্ছে।