সাড়ে ৪ লাখ মানুষের ভরসা এক হাসপাতাল, রোগীর চাপে বেহাল চিকিৎসাসেবা

লাখাই (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা

সারাদেশ

হবিগঞ্জের লাখাইয়ে হাম, ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা দিয়েছে

2026-09-28T16:03:11+00:00
2026-09-28T16:03:11+00:00
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
 
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সাড়ে ৪ লাখ মানুষের ভরসা এক হাসপাতাল, রোগীর চাপে বেহাল চিকিৎসাসেবা
লাখাই (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
হবিগঞ্জের লাখাইয়ে হাম, ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও হাসপাতালটি এখনও ৩১ শয্যার জনবল ও অবকাঠামো দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭৪ জন রোগী। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীদের ওপরও বাড়ছে চাপ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য উপজেলায় এটিই প্রধান সরকারি হাসপাতাল। সাম্প্রতিক সময়ে হাম, ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটের ব্যথাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ায় প্রতিদিনই হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও স্বজন অভিযোগ করেন, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্স পাওয়া যায় না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যে ধরনের সেবা পাওয়ার কথা, বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল পুরোপুরি বাড়েনি। এতে রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে বিদ্যমান চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী শামসুল আরেফীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। এ কারণে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে এবং এ নিয়ে রোগী ও হাসপাতালকর্মীদের মধ্যে প্রায়ই বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, হাসপাতালে প্রায় ৩০ জন চিকিৎসক, ২০ জন নার্স এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট রয়েছে। জনবল বাড়ানোর জন্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত জনবল পাওয়া যায়নি।

ডা. কাজী শামসুল আরেফীন বলেন, রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে না পারায় তিনি নিজেকে অনেক সময় দায়ী মনে করেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল্লাহ আল মোক্তাদির বলেন, জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। টানা দায়িত্ব পালনের কারণে তারাও পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন না। তারপরও রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে হতাশা রয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্যান্য জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে শয্যা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিরও দাবি উঠেছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: