পটুয়াখালীর বাউফলে লাউগাছ লাগানো নিয়ে বিরোধের জেরে গৃহবধূ রানী বেগমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী-স্ত্রীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি হালিম রাঢ়ীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তাঁর স্ত্রী পুষ্প বেগমকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শহিদুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হালিম রাঢ়ী (৫১) বাউফল উপজেলার কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার দায়ে তাঁর স্ত্রী পুষ্প বেগমকে (৫১) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন জানান, ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর বিকেলে বাউফলের কেশবপুর গ্রামে রাস্তার পাশে লাউগাছ লাগানোকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেম রাঢ়ীর সঙ্গে প্রতিবেশী হালিম রাঢ়ী ও তাঁর স্ত্রী পুষ্প বেগমের বিরোধ হয়। এর জেরে পরদিন ১২ ডিসেম্বর সকালে কাশেম রাঢ়ী বাড়িতে না থাকার সুযোগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান হালিম ও পুষ্প।
এ সময় আসামিদের দা ও লাঠির আঘাতে কাশেম রাঢ়ীর স্ত্রী রানী বেগম গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওই দিন বিকেলে নিহতের স্বামী আবুল কাশেম রাঢ়ী বাদী হয়ে হালিম রাঢ়ী ও পুষ্প বেগমকে আসামি করে বাউফল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
মামলায় ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় এক নম্বর আসামি হালিম রাঢ়ী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামি পুষ্প বেগম পলাতক থাকায় গ্রেপ্তারের দিন থেকে তাঁর সাজা কার্যকর হবে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী আবুল কাশেম রাঢ়ী।
আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজা।