বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার কয়েক বছর পর আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আমবাড়িয়া ও কটকার কালামিয়ার ভারাণী এলাকায় শুক্রবার দিবাগত রাতে অস্ত্রের মুখে চার জেলেকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে বনদস্যু মজনু বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ সময় পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি মাছ ধরার নৌকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগও করেছেন জেলেদের মহাজনরা।
অপহৃত চার জেলের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন খুলনার কয়রা এলাকার রিপন (২৬), বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার ফরিদ (৩০) এবং রামপাল এলাকার রিপন (২৮)। অপহৃত অপর জেলের নাম-পরিচয় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপহৃত জেলেদের মহাজনরা জানান, শুক্রবার দিবাগত রাতে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি ট্রলারে করে জেলেবহরে হামলা চালায়। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থান থেকে পৃথক চারটি মাছ ধরার নৌকা থেকে চার জেলেকে তুলে নিয়ে যায়।
মহাজনদের অভিযোগ, অপহরণের পাশাপাশি জেলেদের ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি মাছ ধরার নৌকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায় দস্যুরা। তবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপহৃত জেলেদের মুক্তিপণ চেয়ে কোনো মহাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিল্টন রায় জেলে অপহরণের খবর পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অপহরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। অপহৃত জেলেদের অবস্থান শনাক্ত ও তাঁদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও তাঁদের মহাজনদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গম বনাঞ্চল ও নদী-খালে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল জোরদার এবং অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।