সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় সরকারি খাসজমি দখলে বাধা দেওয়ায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সকালে উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের পাথারিয়াকান্দা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণ পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। হামলার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার মাথায় ছয়টি সেলাই দিতে হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, টিনু মিয়া নামে এক ব্যক্তি প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের এলাকা থেকে এসে পাথারিয়াকান্দা এলাকায় সরকারি খাসজমি দখল করে বসতঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার সকালে টিনু মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ওই সরকারি জায়গায় ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করতে যান। এ সময় প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণ সরকারি জায়গা দখলের প্রতিবাদ করে কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে টিনু মিয়া ও তার স্বজনরা তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। পরে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করে বলেন, হামলার আগে টিনু মিয়া কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে প্রধান শিক্ষককে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে টিনু মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, সরকারি খাসজমি দখলের প্রতিবাদ ও বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পাথারিয়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র বর্মণ আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।