নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্বর্ণের দোকানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণ ও রূপার অলংকার, নগদ টাকা, দেশীয় অস্ত্র এবং ডাকাতির সময় ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বন্দরের সোনাচড়া ঢাকেশ্বরী বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে হানা দেয়। এ সময় ডাকাতরা দোকানের কর্মচারীদের জিম্মি করে প্রায় ২০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায়।
ডাকাতির পুরো ঘটনা দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে সেই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
এ ঘটনায় বন্দর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন ডাকাতির সময় দোকানের বাইরে অবস্থান করে সহযোগিতা করেছিলেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বন্দরের সোনাচড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন (৩২), সোনাচড়া ঢাকেশ্বরী এলাকার মো. মিজান (২৬), উত্তর লক্ষণখোলা এলাকার মো. অনিক (২২), মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শোলারচর এলাকার সুমন বেপারী (৩৮) এবং বন্দরের সোনাচড়া এলাকার রাজু আহমেদ (২৪)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, প্রায় আধা ভরি রূপার নূপুর, আংটি ও চুড়ি, স্বর্ণ ও রূপার প্রলেপ দেওয়া দুটি চুড়ি এবং একটি স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি ১৮ ইঞ্চি দেশীয় ছুরি, একটি ১২ ইঞ্চি ছুরি, একটি চাইনিজ কুড়াল এবং ডাকাতির সময় ব্যবহৃত শার্ট, গেঞ্জি ও প্যান্ট জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পলাতক অন্য ডাকাতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। লুণ্ঠিত অবশিষ্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।