মঞ্চজুড়ে ঝলমলে আলো, গ্ল্যামার আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশ। প্রতিযোগিতা শেষে সেই আলো পেছনে ফেলে আবারও ল্যাপটপের সামনে বসে পড়লেন তিনি। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার র্যাম্প থেকে সরাসরি গুগলের অফিস—উমঙ্গা কুমাওয়াতের জীবন যেন দুই ভিন্ন জগতের এক আশ্চর্য মেলবন্ধন।
মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬-এর জাতীয় প্রতিযোগিতায় মধ্যপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সেরা ২০-এ জায়গা করে নিয়েছিলেন উমঙ্গা। ২৩ আগস্ট জয়পুরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ৫২ প্রতিযোগীর মধ্যে এই সাফল্য পান তিনি। জাতীয় খেতাব জেতেন কেরালার কাজিয়া লিজ মেজিয়া।
তবে প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর উমঙ্গার গন্তব্য ছিল না সিনেমা কিংবা ফ্যাশন দুনিয়া। বরং ফিরে যান নিজের পুরোনো কর্মজগতে—গুগলের বেঙ্গালুরু ক্যাম্পাসে। সেখানে তিনি ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, গুগলে তিনি Cloud Engineer II পদেও উন্নীত হয়েছেন।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মিনিটের ‘ডে ইন মাই লাইফ’ ভিডিও শেয়ার করে কর্মজীবনের সেই ব্যস্ত দিনের ঝলক দেখান উমঙ্গা। সেখানে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ল্যাপটপ, ব্যাকপ্যাক ও ইয়ারবাড নিয়ে অফিসের উদ্দেশে বের হচ্ছেন তিনি।
অফিসে পৌঁছে কাজ শুরুর আগে ওয়েলনেস সেন্টারে ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং করেন। এরপর ডেস্কে ফিরে শুরু করেন নিয়মিত কাজ। দুপুরে গুগলের ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার খান। বিকেলে আবার কাজে ফেরেন এবং দিনশেষে কফি বিরতিও নেন। তাঁর এই রুটিনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজর কেড়েছে।
উমঙ্গার গল্প শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তি জগতেও রয়েছে তাঁর শক্ত অবস্থান। লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, ক্লাউড প্রযুক্তি, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট ও জেনারেটিভ এআই নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। তিনি Google Cloud-এর Professional Data Engineer সার্টিফিকেশনও অর্জন করেছেন এবং গুগল ক্লাউড কমিউনিটিতে প্রযুক্তিবিষয়ক লেখাও প্রকাশ করেছেন।
গুগলে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই প্রযুক্তি নিয়ে কাজের ধারাবাহিকতা দেখা যায়। পরবর্তীতে Cloud Engineer II হিসেবে পদোন্নতিও পান তিনি।
একদিকে ক্যামেরার সামনে আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি, অন্যদিকে জটিল ক্লাউড প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ—এই দুই ভিন্ন পরিচয়ই এখন উমঙ্গা কুমাওয়াতকে আলোচনায় এনেছে।
মিস ইউনিভার্সের মুকুট না জিতলেও উমঙ্গার গল্প থেমে যায়নি। বরং র্যাম্পের আলো পেরিয়ে তিনি ফিরে গেছেন নিজের আরেক পরিচয়ে—গুগলের প্রযুক্তি দুনিয়ায়। আর সেই দ্বৈত জীবনই এখন তাকে আলাদা করে তুলেছে।